,

৬ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকিতে

news-image

কক্সবাজার প্রতিনিধি : বাংলাদেশে আশ্রিত ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা কমে যাওয়ায় এ হুমকি তৈরি হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই এই সংকট তীব্র হচ্ছে।

রবিবারম (২৪ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিত্রটি তুলে ধরে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, কক্সবাজারের ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ১৮ বছরের নিচে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ (৩১ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত) শিশু রয়েছে। গত আট বছরে প্রতিবছর গড়ে ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। নতুন প্রজন্ম বাড়লেও তাদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, একসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪ হাজার ১০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু ছিল। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯২টি লার্নিং সেন্টার ছিল। কিন্তু তহবিলসংকট ও নানা জটিলতার কারণে ইতোমধ্যে প্রায় চার হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭২৪টি লার্নিং সেন্টার রয়েছে। এ অবস্থায় কেজি থেকে গ্রেড-৪ পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু ঝরে পড়েছে। তাদের অনেকে পড়ালেখা ছেড়ে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে সংকটের মাঝেও প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শিশু এখনো শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। যার ৭৫ শতাংশই ইউনিসেফ-সমর্থিত লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনা করছে। তহবিলসংকটের কারণে ১ হাজার ১৭৯ জন হোস্ট কমিউনিটি টিচিং ভলান্টিয়ার চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমানে ১ হাজার ৩৭০ জন হোস্ট কমিউনিটি শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে ক্যাম্পে ৩ হাজার ৮৭৩ জন রোহিঙ্গা টিচিং ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। তবে তাদের অনেকে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না।

রানা ফ্লাওয়ারস আরও বলেন, চাকরি হারানো শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমে ইউনিসেফ কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন। ক্যাম্পে তাদের গাড়ি চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ‘চাকরি ফিরিয়ে না দিলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে’- এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু শিক্ষা নয়, অন্যান্য মানবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফে কাজ করছি। তবে এবারের মতো ভয়াবহ ফান্ড ক্রাইসিস আমি আগে দেখিনি।’

রানা ফ্লাওয়ারস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও সোমালিয়ার মতো সংঘাতকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বেড়ে গেছে। এ জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে ফান্ড ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে। তবুও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তহবিল বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে পুরো একটি প্রজন্ম অশিক্ষিত হয়ে বেড়ে উঠবে। এর প্রভাব শুধু ক্যাম্প নয়, পুরো অঞ্চলের ওপর পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ কক্সবাজার আঞ্চলিক অফিসের প্রধান অ্যাঞ্জেলা কার্নেও উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট