,

৭ দফা সুপারিশ ৮ বছরেও আমলে নেওয়া হয়নি

news-image

গোলাম সাত্তার রনি
২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্যাস-৮ উড়োজাহাজ অবতরণকালে টেক অফের মুহূর্তে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বিমানটি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করে দেখতে পায় ল্যান্ডিং গিয়ারে থাকা বিয়ারিং ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা। কমিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ড্যাস-৮ উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণসহ সাত দফা সুপারিশ করে। কিন্তু দীর্ঘ ৮ বছরেও সুপারিশগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার বিমানের আরেকটি ড্যাস-৮ উড়োজাহাজের চাকা খুলে পড়ে যাওয়ার পর আলোচনায় এসেছে ৮ বছর আগের সেই দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের সাত দফা সুপারিশ।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এদিনের দুর্ঘটনার পেছনেও ল্যান্ডিং গিয়ারিংয়ের ত্রুটি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির দিকটি সামনে এসেছে। ল্যান্ডিং গিয়ারের বেয়ারিংয়ের গ্রিজ শুকিয়ে যাওয়ায় চাকাটি খুলে পড়েছে বলে ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতিয়মান হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ড্যাস-৮ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবিএম মুস্তাগিসুর রহমান ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর বিমানের এমডির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে ৭ দফা সুপারিশ অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, চাকায় থাকা পুরনো গ্রিজ বদলে ফেলা, ব্রেক প্রতিস্থাপনের

সময় গ্রিজ দূষিত পাওয়া গেলে চাকাও প্রতিস্থাপন করা এবং দূষিত বা পোড়া গ্রিজ পরিবর্তন করা। উড়োহাজের নাটগুলো ঠিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা, বিয়ারিং ঠিক মতো স্থাপন হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করা। এগুলোতে নতুন গ্রিজ দেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া। এ ছাড়া বিয়ারিং সিল ও হুইল সঠিকভাবে স্থাপন করা এবং হুইল সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, তা পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া।

বিমানের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ওই সুপারিশগুলো ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়নি। যে কারণে গত শুক্রবার কক্সবাজার থেকে ড্যাস-৮ উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পর একটি চাকা খুলে পড়ে যায়। সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্তৃপক্ষের কন্ট্রোল টাওয়ার অন্য আরেকটি বিমানের পাইলটের কাছ থেকে চাকা খুলে পড়ে যাওয়ার তথ্য জানতে পেরে ড্যাস-৮ উড়োজাহাজের পাইলটকে জানায়। এরপর শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ড্যাস-৮ উড়োজাহাজটির নিরাপদ অবতরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই উড়োজাহাজটি নিরাপদ অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উড়োজাহাজটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ছিল দায়িত্বশীলদের। এ ছাড়া উড্ডয়নের আগে একজন প্রকৌশলী যে ইন্সপেকশন করেছিলেন তাতেও গলদ ছিল। যে কারণে ল্যান্ডিং গিয়ারের বিয়ারিংয়ের গ্রিজ শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়েনি। যে কারণেই চাকা খুলে পড়ে যায়। আবার উড়োজাহাজটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রতি ৬ মাস অন্তর ল্যান্ডি গিয়ার মেইন্টেনেন্স করার কথা বললেও তা করেনি। আর গত দেড় বছর ধরে দুর্ঘটনা কবলিত ড্যাস-৮ উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট