,

জেলেনস্কির পাশে ইউরোপ

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছুড়ে ফেলে দিলেও ইউরোপ যেন তাকে বুকে টেনে নিল। ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশির ভাগ নেতা জেলেনস্কির পাশে এসে দাঁড়ালেন। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে যেভাবে তাকে চেপে ধরেছিলেন, তা ছিল নজিরবিহীন। একজন প্রেসিডেন্টের প্রতি আরেকজন প্রেসিডেন্টের এমন আচরণ কূটনৈতিক জগতে বিরল ঘটনা।

ওই বৈঠকে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বাতিল করা হয় যৌথ সংবাদ সম্মেলন। জেলেনস্কি ও তার সফরসঙ্গীদের আপ্যায়নও করা হয়নি।

জেডি ভ্যান্স ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেকটা মারমুখী আচরণে বিমর্ষ বদনে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে জেলেনস্কি রওনা হন ব্রিটেনের উদ্দেশে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বলেন, ব্রিটেনসহ ইউরোপ রয়েছে তার সঙ্গে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে জেলেনস্কিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্টারমার। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ সময় স্টারমার বলেন, ‘যতদিন প্রয়োজন আমরা ইউক্রেনের পাশে থাকব।’ স্টারমার ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য ‘অটল সংকল্পের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

জেলেনস্কিকে জড়িয়ে ধরলেন স্টারমার, দিলেন ২.৮৪ বিলিয়ন ডলার

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার জেলেনস্কিকে দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি ইউক্রেনকে ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার (২.২৬ বিলিয়ন পাউন্ড) ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। শনিবার ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বাসভবনে এই ঋণ চুক্তি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

সেখানে স্টারমার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আপনাকে এখানে, এই ডাউনিং স্ট্রিটে অনেক অনেক স্বাগতম।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেমনটি আপনি বাইরে রাস্তায় উল্লাসধ্বনি শুনেছেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে আপনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং যতদিনই লাগুক আমরা আপনার সঙ্গে, ইউক্রেনের সঙ্গে রয়েছি।’

এ সময় স্টারমার এবং ব্রিটেনের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এই ঋণ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ঋণের অর্থ দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হবে। রাশিয়ার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ দিয়ে আমরা এই ঋণ পরিশোধ করব। এটাই ন্যায়বিচার। যারা আক্রমণ করেছে, যারা আগ্রাসী, খরচও করতে হবে তাদেরই।’

যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাজ করবে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইউক্রেন

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একতরফা উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি ইউরোপকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রেখেছেন। কিন্তু কেইর স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হয়েছে এখন ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইউক্রেন সম্মিলিতভাবে যুদ্ধবিরতির একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে।

গতকাল রবিবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানান, হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির বাগ্‌যুদ্ধ দেখে ‘অস্বস্তি’তে পড়েছিলেন তারা। তখনই তিনি মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন। তার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যাতে আবার আলোচনায় বসেন, সেই চেষ্টা তিনি করবেন। দুজনের মধ্যে সেতু হবেন তিনি।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বসে যুদ্ধ থামাতে একটি শান্তিচুক্তি তৈরি করবে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। পরে বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠিয়ে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

জেলেনস্কির পাশে ইউরোপ
জেলেনস্কির পক্ষে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। এ বিষয়ে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘প্রিয় জেলেনস্কি, ইউক্রেনের প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা একা নন।’ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সেনচেজ এক্স পোস্টে লেখেন, ‘স্পেন ইউক্রেনের পাশে আছে।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও ইউক্রেন ও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া আগ্রাসনকারী এবং ইউক্রেনের মানুষ এই আগ্রাসনের ভুক্তভোগী। শুরু থেকে যারা লড়াই করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।’

জার্মানির ভবিষ্যৎ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যাৎস এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা ভালো এবং কঠিন সময়ে ইউক্রেনের পাশে থাকব। এই যুদ্ধে আক্রমণকারী ও আক্রান্তকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।’

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ‘তিনি এই সংঘাতে ভুক্তভোগী ও হামলাকারীকে পাল্টে দিচ্ছেন, যা এক নতুন অন্ধকার যুগের সূচনা করতে পারে।’

লন্ডনে জড়ো হয়েছেন ইউরোপের নেতারা

ট্রাম্প-জেলেনস্কির ব্যর্থ বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বাড়ানো ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সম্মেলনে বসতে যাচ্ছেন ইউরোপের নেতারা। এই সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এক ডজনের বেশি নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আবারও নিশ্চিত করা।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইউরোপীয় নেতারা বৈঠকে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করবেন। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুশ আগ্রাসন প্রতিহত করার উপায় এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে পরিকল্পনা করবেন তারা। ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, ইতালি, তুরস্ক, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

ইতোমধ্যে লন্ডনে পৌঁছেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন প্রমুখ। এ ছাড়া জার্মানির চ্যান্সেলর, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর নেতারা, স্লোভাক ও স্লোভেনীয় নেতারা, বালকান অঞ্চল ও পূর্ব ইউরোপের নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় আরেকটি সম্মেলনের আগেই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ব্রাসেলসের সম্মেলনে ইউক্রেনসহ পুরো ইউরোপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে একটি নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করবে ইউরোপীয় কমিশন।

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট