,

চাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা শেয়ালেরও চেয়েও ধূর্ত: খাদ্যমন্ত্রী

news-image

বগুড়া প্রতিবেদক : খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, চাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা একে অপরকে দোষ দেন। তারা শেয়ালের চেয়েও ধূর্ত। কথায় কথায় বলেন, সরকারকে সাহায্য করছে, বরং তারাই সরকারের কাছ থেকে সবধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ঋণ নিয়ে সেই টাকায় গাড়ি-বাড়ি করছেন। আর বলেন, ব্যবসা নেই। মিল চালাতে পারছিনা।

আজ রোববার বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে মিল মালিক, আড়তদার, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চালের দাম বাড়ানোর জন্য মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, অবৈধপন্থায় ব্যবসা পরিচালনা করা থেকে সরে না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মজুদদারদের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আইন হয়েছে, অচিরেই তা কার্যকর হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রায় প্রতিটি জেলায় ২-৩ জন করে ব্যবসায়ী আছেন, তারা প্রতিদিন সকালে মোবাইল ফোনে অন্য জেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ধান-চালের দাম ঠিক করে দেন। এ সুযোগ তারা নিয়েছেন জাতীয় নির্বাচনের অন্তবর্তীকালে। সেটি এখনও তারা বহাল রেখেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বগুড়ায় চালের দাম কেন বাড়ল এবং নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে খাদ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য বিভাগ থেকে বলা হয়, হঠাৎ চালের দাম বাড়লে কেজিতে ২-৩ টাকা কমিয়ে এ জেলায় ধান-চালের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ২৩ জানুয়ারি। ওইদিন থেকে নির্ধারিত দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে।

সভায় প্রশাসনের এই কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন শাজাহানপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সভায় যা বলা হচ্ছে বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। চালের দাম কমেনি বরং প্রশাসনের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের চেয়ে ২-৩ টাকা বাড়তি। আমি সভায় আসার আগে শহরের বকশি বাজারসহ ২টি বাজারে বিষয়টি দেখে এসেছি।’

সভায় মিল মালিকরা চালের দাম বাড়ানোর জন্য দায়ী করেন কর্পোরেট ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের। জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দুদু বলেন, মিলে কোনো ধান-চাল মজুদ করা হয়না। মজুদ করেন আড়তদার ও কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা।

সভায় এর পাল্টা জবাব দেন আড়তদাররা। শহরের রাজাবাজার চালের আড়তদার সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, কোনো আড়তেই চাল মজুত নেই। মিলাররাই দালালদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে ধান মজুত করে রাখেন।

সভায় অভিযানের বিষয়ে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপর ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। মন্ত্রী খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ কাজ প্রশাসন কেন করবে তোমরা কি ঘোড়ার ঘাস কাট? তোমরা কেন নিয়মিত বাজার মনিটরিং কর না?’

আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ জেলায় চালের দামের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কমুার, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আলম মামুন, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্তবর্তী বক্তব্য দেন।

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট