বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান চুক্তিকে ভারত-পাকিস্তান স্বাগত জানালেও নিশ্চুপ বাংলাদেশ

news-image

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধে সরাসরি না হলেও কম খেসারত দিতে হয়নি বাংলাদেশকে। ইরানে পাট রফতানি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ সহ অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশকেও। ইরান থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল এনে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সহ মিয়ানমার ও এমনকি এনার্জি হাংরি কান্ট্রি দেশ হিসেবে চীনে পুনরায় রফতানি করতে পারত। জ্বালানি উৎপাদন বা উদ্বৃত্ত না থাকলেও তা পুনরায় তা রফতানির সুযোগ এখন ভারতের কাছে হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাইপলাইনে ভারত বাংলাদেশে যে জ্বালানি তেল রফতানি করতে চাচ্ছে তা আসবে ইরান থেকেই। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে একমত এবং মুসলিম দেশ হয়েও একতরফা পশ্চিমা ঘেঁষা নীতি ও শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতি না থাকায় বাংলাদেশ এক্ষেত্রে মার খাচ্ছে।

পররাষ্ট্র বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেমন একদিকে জাপান সফরের পর চীনে ছুটছেন, মধ্য এশিয়ার ৬টি দেশে সফরে যেয়ে ইসলামী বয়ান করে হাজার হাজার টন ইউরেনিয়াম আমদানির বন্দোবস্ত করে ফের ইসরায়েল সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর ইসরায়েলের পর মোদি যাবেন সৌদি আরব সফরে। অর্থ ও সামরিক সাহায্য মার্কিনীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আদায় করছে ভারত। আবার ইরানের ওপর অবরোধ থাকার পরও দেশটির কাছে থেকে তেল ক্রয় না করার জন্যে যখন পশ্চিমা দেশগুলো হুমকি দিয়েছিল তখন চীনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনেছে। সেই সাহসী পররাষ্ট্রনীতির সুফল পাচ্ছে আজকে ভারত। এজন্যে ইরানের সঙ্গে ৬ পরাশক্তির চুক্তির পর তা স্বাগত জানাতে বিলম্ব করেনি ভারত। পাকিস্তানও ফের ইরানের সঙ্গে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ কাজ আরো জোরদার করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে আসায় বাংলাদেশ জনশক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই সুযোগে পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা এখনো পায়নি বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের অযাচিত প্রস্তাব অনেকটাই কাটাতে বাংলাদেশ ইরানের ভূমিকা লক্ষ্য করে আগাতে পারে। প্রতিবেশি দেশ ভারতের ভূমিকাও লক্ষ্য করার মত। কিন্তু স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অভাবেই তা সম্ভব হচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান, কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে তেল পরিশোধনাগার করে ক্রুড এনে বিভিন্ন জ্বালানি তেল উৎপাদনের পর তা আশেপাশের দেশে রফতানি করার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়ে আসছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার হয়ে যায় বলেই এখাতে বিপুল চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উত্তরপূর্ব ভারতে জ্বালানী তেল রফতানির পরিকল্পনা তো দূরের কথা একতরফা কানেক্টিভিটি, ট্রানজিট বা নৌ চলাচলে বাংলাদেশ কেবল সুবিধা দিয়েই আসছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে যে কোনো সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকছে। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে তেল পরিশোধনাগার স্থাপনে বিনিয়োগ প্রস্তাব কখনো আলোর মুখ দেখেনি। গত ৪৩ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও স্বাধীনতার আগে স্থাপিত একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারী ভরসা কেবল। অন্যদিকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন খাতে জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স একসময়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রোডাকশন শেয়ার কনট্রাক্টের বদৌলতে বিদেশি তেলগ্যাস কোম্পানিগুলো কতটা একতরফা বাণিজ্য করে নিয়েছে তা ভিন্ন আরেক কাহিনী।

অথচ পররাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে জাতীয় স্বার্থ আদায় করে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তান লক্ষ্য করছে যে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর তিক্ততার অবসান হল ৩৫ বছর পরে৷ অস্ট্রিয়ার রাজধানীর কোবার্গ প্যালেস হোটেলে টানা ১৭ দিন ধরে দর কষাকষির পর মঙ্গলবার ভোরে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-সহ বিশ্বের ছ’টি মহাশক্তিধর দেশের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ এর খসড়া চুক্তি সই হয়েছিল তিন মাস আগে, সুইজারল্যান্ডের লসানে৷ একই সঙ্গে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গেও আলাদা একটি চুক্তিতে সই করেছে৷ এই চুক্তির ফলে এতদিন কার্যত কোণঠাসা ইরান পশ্চিমা দুনিয়ার কাছাকাছি আসার সুযোগ পাচ্ছে। আর সেই নিরিখে শুধু ভারত পাকিস্তান কেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক সৃষ্টিতে হোমওয়ার্ক করছে। খোদ বোয়িং কোম্পানি শতাধিক বোয়িং প্লেন বিক্রির জন্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পাট একসময়ে ইরানে রফতানি করলেও ফের দেশটির সঙ্গে আমদানি রফতানি করে কিভাবে অন্যান্যদেশের সঙ্গে একইভাবে লাভবান হতে পারে তার কোনো আভাস এখনো মিলছে না। অথচ ইরানের সঙ্গে এধরনের চুক্তিতে লাভবান হবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিও৷ প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮০% আমদানি করতে হয় ভারতকে৷ চুক্তি স্বাক্ষরের পরেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক ডলার কমে দাঁড়ায় ৫৬.৬৬৷

চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘এই চুক্তির ভিত্তি হল বিশ্বাস নয়, সত্যতা যাচাই৷ এর ফলে ইরানের জন্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পথই বন্ধ হয়ে গেল৷’ এর পাশাপাশি, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে নবযুগের সূচনা হল৷’ অন্য দিকে, এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক ভুলের ফলে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ইরান নিশ্চিত ভাবেই কয়েক কদম এগিয়ে গেল’’

এই চুক্তির ফলে আমেরিকার সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার মুখ্য দেশগুলির রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে৷ এর পাশাপাশি, পারস্য উপসাগরে গ্যাসক্ষেত্র পরিকাঠামো তৈরির সুযোগও চলে এসেছে ভারতের কাছে৷

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা