,

প্রথম স্বামীর মামলায় দ্বিতীয় স্বামী কারাগারে, মুক্ত করতে ঘুরছেন ফাতেমা

news-image

অনলাইন ডেস্ক: প্রথম স্বামীকে স্বেচ্ছায় তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ফাতেমা বেগম। কিন্তু প্রথম স্বামীর দায়ের করা অপহরণ মামলায় বর্তমান স্বামীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন সেখানকার একটি আদালত। এখন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামীর মুক্তির জন্য হাইকোর্টের ঘুরছেন ফাতেমা।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে একই উপজেলার মো. জাকির হোসেনকে বিয়ে করেন ফাতেমা। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানও জন্ম হয়। কিন্তু জাকিরের নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে তালাক দেন। পরে শাহ আলম নামের একজনকে বিয়ে করেন ফাতেমা। কিন্তু জাকির বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ফাতেমার দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ বর্তমান স্বামী শাহ আলমের বিরুদ্ধে ফাতেমাকে অপহরণ করার মামলা করেন। জাকির ও শাহ আলম সম্পর্কে দুজন শ্যালক-দুলাভাই।

সেই মামলায় শাহ আলম গ্রেফতার হন। পরে তিনি জামিনে বের হন। এরপর পাঁচবার কারাগারে বন্দি হন শাহ আলম। এরই মধ্যে ফাতেমা ও শাহ আলম দম্পতির দুটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আসামি শাহ আলমকে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বরগুনায় ট্রাইব্যুনালের এপিপি আশ্রাফুল আলম সেদিন বলেছিলেন, শ্যালকের বউ (ফাতেমা) অপহরণ মামলায় দুলাভাই শাহ আলমকে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলা বাদী ফাতেমার প্রথম স্বামী জাকিরের অভিযোগ, অপহৃত ফাতেমা বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দিয়ে শাহ আলমকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু শাহ আলম বলেন, ফাতেমা স্বেচ্ছায় আমার সঙ্গে গেছেন এবং আমাকে বিয়ে করেছেন। আমরা এখন স্বামী-স্ত্রী। আমাদের দুটি সন্তানও আছে। অন্যায়ভাবে আমাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

এদিকে ফাতেমা গণমাধ্যমকে বলছেন, আমি অপহরণ হয়নি। সে (শাহ আলম) আমাকে অপহরণ করেনি। আমার প্রথম স্বামী মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি নিজের ইচ্ছায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমার দ্বিতীয় বিয়ের পরে সে (প্রথম স্বামী জাকির) অপহরণ মামলা করেছে।

তবে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায়ের বর্ণনায় উল্লেখ করেন, ফাতেমা ২২ ধারায় জবাবন্দিতে অপহরণ হননি এবং প্রথম স্বামীকে (জাকির) ডিভোর্স দেওয়া মর্মে যে জবানবন্দি দিয়েছেন- তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় মনে হচ্ছে, ডিভোর্স না দিয়েই তিনি শাহ আলমের কাছে চলে গেছেন। আইনের চোখে এটা অপরাধ মনে হওয়ায় আসামিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

শাহ আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন হাইকোর্টে ঘুরছেন ফাতেমা। উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়ে তার স্বামীকে কারামুক্ত করার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

শাহ আলমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, বিচারকের নিজস্ব কোনো চোখ থাকে না। তার চোখ হলো এভিডেন্স (তথ্য-প্রমাণ)। এই এভিডেন্স যিনি ভিকটিম তিনি আদালতে বলেছেন যে তিনি অপহরণ হননি। তারপরেও কেন তাকে (শাহ আলম) সাজা দিতে হবে। তাকে কেন পাঁচবার কারাগারে নিতে হবে। কেন ২০ বছর কারাদণ্ড দিতে হবে- এ প্রশ্ন তুলেন হাইকোর্টের এই আইনজীবী।

সূত্র : যুগান্তর

এ জাতীয় আরও খবর

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা

সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুতি

রসদ সংকট ও সামরিক প্রস্তুতিহীনতায় দিশেহারা মার্কিন সেনা: দ্য ইন্টারসেপ্ট