,

হত্যাকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দেবার চেষ্টা : সরাইল থানায় মামলা দায়ের

1020400আমিরজাদা চৌধূরী : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের উচালিয়াপাড়ার তৈয়ব উদ্দিন মুন্সীর পুত্রবধূ আকলিমা আক্তার (৩০) যৌতুকের নির্মম বলি হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু তার মৃত্যুকে স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হয়।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার সরাইল থানায় ওই গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদসহ আটজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আকলিমার স্বামী হেলাল উদ্দিন মুন্সী, তার দেবর জুয়েল উদ্দিন মুন্সী, জয়নাল উদ্দিন মুন্সী, জিয়াউদ্দিন মুন্সী, শ্বাশুড়ি আউলিয়া বেগম, জা পান্না আক্তার, ননদ চম্পা আক্তার ও শ্বশুর তৈয়ব উদ্দিন মুন্সী।
নিহত আকলিমার বড় ভাই মামলার বাদি শহরের মধ্য মেড্ডা এলাকার মৃত মাজু মিয়ার ছেলে  আকতার মিয়ার দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে উচালিয়াপাড়ার তৈয়ব উদ্দিন মুন্সীর ছেলে হেলাল উদ্দিন মুন্সীর (৪০) সাথে তার ছোট বোনের বিয়ে হয়। সেসময় প্রায় সোয়া দুই লাখ টাকার বিভিন্ন আসবাব সামগ্রী যৌতুক হিসেবে তাদেরকে দেয়া হয়। এরপর সংসার চলতে থাকলে তার বোনের দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান হয়। সম্প্রতি আকলিমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন পাকা বাড়ি নির্মাণ করতে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এরপর আকলিমার বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয়। ওই টাকা পেয়ে তারা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে।
নির্মাণ কাজ শেষে আকলিমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার কাছে আবারও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ওই টাকা দেবার সামর্থ্য নেই জানিয়ে অস্বীকৃতি জানালে আকলিমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার উপর মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন শুরু করে। এভাবে দিন চলতে থাকার এক পর্যায়ে আকলিমা নির্যাতনের বিষয়টি তার মা ও বড় ভাইকে জানায়। তারা এ বিষয়ে আকলিমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাছেও যৌতুক বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
মামলায় বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে আকলিমার স্বামী ও দেবররা লোহার রড দিয়ে তার মাথার বাম পাশে এবং বাম ও ডান চোখের পাশে আঘাত করে। এসময় আকলিমার শ্বাশুড়ি ও ননদরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে মারাত্মক আহত করে। এরপর স্বামী ও কয়েকজন দেবর মিলে তার গলায় চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করে তার লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সরাইল থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আরশাদ বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। দ্রুত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর