,

হারিয়ে যাচ্ছে তালপাতার পাখা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : উঠোন জুড়ে পচা পাটের ঘ্রাণ। খোলা আকাশের নিচে তালপাতার পাখা আর হোগলা পাতার মাদুর তৈরির দৃশ্য হরহামেশাই গ্রামে-গঞ্জে দেখা যেত। প্রচন্ড গরমে স্ত্রী তার স্বামীকে তাল পাতার পাখা দিয়ে বাতাস দেওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হওয়া ছিল চিরচেনা এক দৃশ্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে সভ্যতার নতুন দিগন্তে তালপাতার পাখা আজ বিলুপ্তির পথে।

তালপাতা পাখার কদর সবচেয়ে বেশি দেখা যেত বিশ শতকের আগে। গ্রামের হাটবাজারে, নবর্বষের মেলায় প্রতিটি দোকানে তখন থরে থরে সাজানো থাকতো তালপাতার পাখা। অনেকেই তখন হাত পাখা কিনে মেলা থেকে হাটতে হাটতে বাড়ি ফিরত। তখনো এতোটা আধুনিকতার ছোয়া লাগেনি গ্রামগঞ্জে। ইলেক্ট্রিসিটির আগমন হয়নি সর্বত্র। বাড়িতে মেহমান আসলে আজকের মতো সুইচ টিপে এয়ারকন্ডিশন ছেড়ে দেয়ারও সুযোগ ছিলনা। গ্রামেগঞ্জে তখন তালপাতার পাখাই ছিল শীর্ষে।

আবদুল মান্নান, বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। পেশায় হস্তশিল্পি। একসময় তালপাতার পাখা বেঁচে সংসার চলত তার। কিন্তু এখন পাখার ব্যবহার কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়েছেন পেশা বদলাতে।

তালপাতার পাখা বিক্রির দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মান্নান বলেন, ‘আমার বাপ ছিল গরিব, ছোট থেকে আমি বাপের সাথে তালপাতা দিয়ে বিছুন (পাখা) বানাইতাম। তারপর গঞ্জের হাঁটে নিয়া, মেলায় নিয়া বেঁচতাম। অনেক মানুষ কিনত তহন এই বিছুন। বিছুনের বাতাস ঠাণ্ডা লাগে, মজাও লাগে। বেঁচা হইত অনেক। আস্তে আস্তে আমগো সংসারটা খাড়াইয়া (অভাব-অনাটনে ভরে ওঠে) যায়। কারেন্ট আইবার পর আর বিছুন বেঁচতে পারিনা আগের মতন। পরে এই কাম ছাইড়া দেই। এহন অন্য কাম করি।’

সত্তরোর্ধ বয়সের ফজিলাতুন্নেছা তার পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রতিবেদকে বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম তখন তালপাতার পাখা দিয়ে বাবাকে বাতাস করতাম। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তাকেও বাতাস করতে হয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্যদেরও তখন বাতাস দিতাম মাঝে মাঝে। এখন আর আগের মতো বাতাস করার সময় নেই। ফ্যানের সুইচ চাপলেই হয়।’

ইলেক্ট্রনিকের যুগে এসে তালপাতা পাখা বিলুপ্তির পথে হলেও তালপাতার যুগের কথা স্মরণ রাখবে আরো কয়েক প্রজন্ম। বাংলার গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে চিরচেনা তালপাতার পাখা। এখন ব্যবহার তুলনামূলক কম হলেও এর ঐতিহ্য হাজার বছরের। আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠতে না পারলেও মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে এ পাখা। যা বৈদ্যুতিক পাখা কিংবা এয়ারকন্ডিশনে যুগের আগেকার অনেকের ভালোবাসা ও আস্থার নাম।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা