বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেফতারী পরোয়ানা থানা পুলিশের ফাইল বন্দী : দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন যুবলীগ নেতাসহ ৭ আসামী

B Baria Mapআমিরজাদা চৌধুরী : একটি মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়েও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ মনির হোসেন। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার একটি উপজেলার নেতা তিনি।
ঐ মামলায় যুবলীগ নেতা ছাড়াও সাজা হয়েছে তার পরিবারের আরো ৪ সদস্যসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে বিদেশে অবস্থানকারী ২ জন ছাড়া বাকী ৭ আসামীই এলাকায় রয়েছে।
গত সপ্তাহে আদালত থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছেনা। এনিয়ে মামলার বাদীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। জানা গেছে, ২০০৩ সালের ৮ই জুন উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদে এক সালিস সভায় হামলা চালান ঐ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগ নেতা মনির হোসেন ও তাঁর পরিবারের লোকজন। সালিশে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাঁরা চেয়ারম্যান কার্যালয়ে হামলা চালায় ও লোকজনকে মারধোর করে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নান্নু  মিয়া বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ মনির হোসেনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দ্রুত বিচার আদালত যুবলীগের আহবায়ক মোঃ মনির হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুই বছর করে সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন মনির হোসেনের পিতা মোঃ আব্দুস ছামাদ, চাচা আব্দুল ওহাব, ছোট ভাই বিপ্লব ও সোহেল এবং  উপজেলার গঙ্গাসাগরের সুমন মিয়া, ছোটন মিয়া, আলমগীর, শাহ আলম ছগির। মামলার বিচার কাজ চলতে থাকা অবস্থায় মনির হোসেনের এক ভাই রাসেল মৃত্যুবরণ করায় আদালত তাকে দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামী  সুমন মিয়া ও শাহআলম ছগির প্রবাসে আছেন। দ্রুত বিচার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আসামীপক্ষ আদালতে আপিল করেন। সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৯ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখেন।
এ বছরের ২৪ মার্চ আদালত সাজাপ্রাপ্ত ৯ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গত সপ্তাহে আদালত থেকে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা আখাউড়া থানায় পৌছে। কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করছেনা। এ ব্যাপারে মামলার বাদি ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নান্নু মিয়া বলেন, আসামী প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছেনা। তিনি জানান, গত ২৪ মার্চ আদালত ৯ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু তারপরও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।  
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মফিজ উদ্দিন ভূইয়া  গ্রেপ্তারী পরোয়ানা পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে চলফেরা করে। তবে তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপার যুবলীগের আহবায়ক মোঃ মনির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলাই আছে। এগুলো রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। তবে  ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছি।

 

 

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা