শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মাসেতুর সাড়ে চার কিলোমিটার দৃশ্যমান

news-image

শরীয়তপুর প্রতি‌নি‌ধি : করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও থেমে নেই পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজ। বুধবার বিকেলে জাজিরা প্রান্তের ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির ওপর ৩১তম স্প্যান বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে সেতুর সাড়ে চার কিলোমিটারেরও বে‌শি অর্থাৎ চার হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

এর আগে সকাল ৮টায় মাওয়া কুমার‌ভোগ ক‌নস্ট্রাকশন থে‌কে ভাসমান ক্রেনে জাজিরা প্রান্তে স্প‌্যান‌টি আনা হয়। সাড়ে ১০টায় ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির ওপর ওঠানোর কাজ শুরু ক‌রেন পদ্মা‌সেতুর প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচা‌রীরা। বি‌কেল ৪টা ২ মিনিটের সময় স্প্যান বসানো শেষ হয়।

এদিকে ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে হওয়ায় সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান বন্ধ ঘোষণা করেন বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানান, এটিই জা‌জিরা প্রা‌ন্তের শেষ স্প‌্যান। মাওয়া প্রান্তে আর ১০টি স্প্যান বসানো বাকি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মাসেতুতে বসানোর জন্য আরো পাঁচটি স্প্যান প্রস্তুত আছে। এর মধ্যে দুটিতে রঙয়ের কাজ চলছে। মূল সেতুর কাজ ৮৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এগিয়েছে। আগামী বছর জুনে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি দ্বিতল হবে। যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

৪২টি খুঁটির ওপর মোট ৪১টি স্প্যান জোড়া দেয়া সম্পন্ন হলে পদ্মাসেতু পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন’ ও মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।