,

আওয়ামী লীগে নানা চিন্তা বিএনপিতে অপেক্ষা

68749_f1ডেস্ক রির্পোট : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে চলছে নানা চিন্তা। বিরোধী জোটের টানা আন্দোলনের মধ্যে আচমকা এ নির্বাচনকে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতি দিয়ে বিবেচনা করছে দু’দলই। এ নির্বাচনের ফল দলীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে এমনটি ভেবেই চলছে প্রস্তুতি। বিরোধী জোটের আন্দোলন চলাকালে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার লাভ-ক্ষতির চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে তফসিল ঘোষণার পর থেকে। শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের বৈঠকের পর তিনি নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করায় সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নড়েচড়ে বসেছেন। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের পর আওয়ামী লীগেও শুরু হয়েছে নতুন চিন্তা। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে- এমনটি ধরে নিয়েই দল সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে মেয়র হিসেবে যে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তাদের নিয়েও নতুন করে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

বিএনপিকে নিয়ে ভাবনায় আওয়ামী লীগ

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব আসায় নতুন করে ভাবছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমনটি ধরে নতুন কৌশলে এগুচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে আগেই মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা হলেও শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তনও হতে পারে। এছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর প্রার্থীর বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা নগর নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে কাজও চলছে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে উত্তরে ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক ও দক্ষিণে সাঈদ খোকনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে আগেই। তবে দক্ষিণে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় নতুন করে ভাবনা দেখা দিয়েছে। একইভাবে উত্তরে সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের একাধিক মেয়র প্রার্থী থাকলে তা নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমনটি ধরে নিয়ে একক প্রার্থী রাখার চূড়ান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে উত্তরে আনিসুল হকের প্রতি সমর্থন থাকলে কামাল আহমেদ মজুমদারকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে। দক্ষিণে সাঈদ খোকনকে রাখলে দলীয় প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন না নগর নেতারা। এ কারণে এখানে বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। এক্ষেত্রে হাজী সেলিমের প্রতি সমর্থন দেয়ার বিষয়ও আলোচনা হচ্ছে। নগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, আগের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে। কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বিদেশে থাকা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দেশে ফিরলে নির্বাচনের বিষয়ে নগর নেতারা বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। এদিকে নগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। শুক্রবার গণভবনে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে ঢাকার স্থানীয় নেতাদেরও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় করবেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। নগর ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিষয়ে কাজ করছেন। নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ জানিয়েছেন, আগে মেয়র পদে যে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তই বহাল আছে। আর কাউন্সিলর প্রার্থীর বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এখনও চূড়ান্ত কোন তালিকা না হলেও বেশিরভাগ ওয়ার্ডে দলের একক প্রার্থী বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নগর আওয়ামী লীগের বৈঠকের পর এ বিষয়ে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা নেয়া হবে। নগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে এমনিতে অস্বস্তি রয়েছে। মেয়র পদে যে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে তাদের নিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভক্তি রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক ভাল ইমেজের প্রার্থী হলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে সাঈদ খোকন ও হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সমর্থন দিয়ে দুভাবে বিভক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। একইভাবে নগরীর প্রায় সব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে চাইছেন তিন থেকে ১০ জন। মাঠে রয়েছেন চার শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা নিজস্ব বলয়ের কর্মী-সমর্থক নিয়ে দলীয় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগই নেয়া হোক দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানো অসম্ভব হবে। যা নির্বাচনের ফলেও প্রভাব ফেলবে। দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত অংশ নিলে দল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দেবে। এক্ষত্রে সর্বাধিক সংখ্যক দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের একাধিক প্রার্থী থাকলেও তাতে কোন সমস্যা হবে না। সূত্র জানায়, বিএনপি অবস্থান নিশ্চিত হয়েই আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করবে। বিএনপি নির্বাচনে থাকলে আওয়ামী লীগ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ারও আভাস দিয়েছেন নেতারা। 

প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী কাউন্সিলর প্রার্থীরা

মামলা-হামলা ও গ্রেপ্তার-নির্যাতনে জর্জরিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী প্রার্থীরা। বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলরদের প্রায় সবার নামেই রয়েছে একাধিক মামলা। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকেই এলাকাছাড়া। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কর্মীদের থেকেও বিচ্ছিন্ন। তবে কেন্দ্র থেকে সিটি নির্বাচনে যাওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ায় তারা তৎপরতা শুরু করেছেন। পুলিশি হয়রানি এড়াতে প্রচারণা চালাচ্ছেন কৌশলে। এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসায় তাদের পক্ষে দোয়া চাওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এলাকার বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। আবার অনেকে এলাকার স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠক করে সমর্থন চাইছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে চিন্তিত বেশির ভাগ প্রার্থী। কাউন্সিলর প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন কয়েকজন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জানিয়েছেন, আমাদের মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে। চলমান অস্থিরতার মধ্যে বিএনপি নির্বাচনে গেলে লাভ-ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ডিসিসির বিএনপি দলীয় সাবেক এক কমিশনার বলেন, আন্দোলন থেকে জনগণের চোখ ফেরাতেই সরকার ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন দিচ্ছে। সরকার চাইছে চলমান অস্থিরতার মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের মতো ডিসিসি নির্বাচনও একতরফা করতে। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা মেয়র পদে জিততে পারবে না। এছাড়া বিএনপি ডিসিসি নির্বাচনে গেলে সরকারের মধ্যে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানি করে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের কোণঠাসা করার অপকৌশল নিতে পারে। ধানমন্ডি এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের বাবলু মানবজমিনকে বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাদের প্রস্তুতি নেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। এলাকার স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠক করছি। স্কুল-কলেজের শিক্ষক, মসজিদ মাদরাসায় গিয়ে দোয়া চাইছি। সবাই আমাকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। পুলিশি হয়রানি এড়াতে কৌশলে প্রচারণা চালানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ প্রায়ই বাসায় অভিযান চালায়। তাই প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে  পারছি না। এলাকায় বাসায় বাসায় গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সেটাই আসল চিন্তার বিষয়। বাসাবো এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার গোলাম হোসেন বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাদের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া দলের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাবেক এই কমিশনার।  মতিঝিল এলাকার সাবেক ৩৩ ও বর্তমান ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য মো. হারুনুর রশিদ বলেন, দলের নীতি-নির্ধারকরা যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আমরা অবশ্যই নির্বাচন করবো। আমাদের মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে বিএনপির প্রায় সব নেতাদের নামেই একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের হয়রানিতে তারা সবাই এলাকাছাড়া। কেউই প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারবে না। প্রচারণা চালাতে গেলেই তাদের পেট্রল বোমা কিংবা ককটেল দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হবে। এই বিষয়গুলো নিয়েও ভাবা হচ্ছে। ডিসিসির সাবেক ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, আমরা দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেয় সেই সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব। তবে আমাদের মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে। কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু দলের নেতাকর্মী প্রত্যেকের নামেই মামলা। পুলিশি হয়রানির কারণে দলের কর্মসূচিগুলো ঠিকমতো পালন করতে পারছি না। তাই কৌশলে প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

বিএনপিতে মেয়র পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার চারদিনের মধ্যেই চারদিকে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সে হাওয়া ছুঁয়ে যাচ্ছে, বিএনপির পালেও। তফসিল ঘোষণার পরপরই সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলে। গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল হিসেবে নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বিএনপি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সিটি নির্বাচন ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জনের অভিজ্ঞতা বিচার-বিশ্লেষণ করেই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত এসেছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে। পেশাজীবীসহ বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে তাদের মতামত, পরামর্শ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে মেয়র পদে আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকজনের নাম। ঢাকা উত্তরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক কমিশনার আবদুল কাইয়ুমই এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন আলোচনায়। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাবেক সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম। এর আগে ওয়ান ইলেভেন ও আওয়ামী লীগ আমলে দুইবার অবিভক্ত ডিসিসি নির্বাচনের আলোচনা শুরু হলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তবে ২০১১ সালে ডিসিসিকে দুই ভাগ ও নির্বাচনের বদলে প্রশাসক নিয়োগ করা হলে তার সেই প্রস্তুতি থেমে যায়। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা সমর্থন দিলে তিনিসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনমুখী দল হিসেবে আন্দোলনে থাকলেও পাশাপাশি নির্বাচনে প্রাথমিক প্রস্তুতিও রয়েছে দলের। এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সাবেক মেয়র ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন বিভক্ত সিটি নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিলে ঢাকা দক্ষিণে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন নিশ্চিতের চেষ্টা করতে পারেন। আবার মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসও দক্ষিণের বাসিন্দা এবং সাবেক মেয়র। তিনি নিজে অংশ না নিলে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন। ফলে উত্তরের চেয়ে দক্ষিণে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতার মধ্যেই রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। ওদিকে নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রার্থী সমর্থনে চমকের সম্ভাবনা রয়েছে। দলের পদ-পদবীধারীদের চেয়ে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ যুক্তিতে আলোচনায় রয়েছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক কারাবন্দি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম। বিশেষ করে আন্দোলন ধরে রেখে নির্বাচনকে গুরুত্ব হলে সে রকম সিদ্ধান্ত এলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। এদিকে চট্টগ্রামেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। গত নির্বাচনে দলের তিনজন সিনিয়র নেতা মেয়র পদে লড়বেন কিনা এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। তাদের এ দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণ ছিল দুইটি। প্রথমত, পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন পদে লড়াই সম্মানজনক হবে কিনা, দ্বিতীয়ত, সার্বিক পরিস্থিতিতে তারা জয় পাবেন কিনা। শেষ পর্যন্ত দল ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মনজুর আলমকে সমর্থন দেয় বিএনপি। তিনি নির্বাচিত হলেও চট্টগ্রামে বিএনপি কোন ধরনের সুবিধা পায়নি। ফলে চট্টগ্রামে প্রার্থী সমর্থন নিয়ে বিএনপি বেশ জটিলতার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তবে এখন পর্যন্ত যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মহানগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বর্তমান মেয়র মনজুর আলম, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন। এদিকে নেতারা বলছেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। বড় দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি সবসময়ই থাকে। তবে তার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিবেশ। সরকার মামলা-গ্রেপ্তার বন্ধ করে পরিবেশ তৈরি করলে দ্রুতই প্রস্তুতি সেরে নিতে পারে বিএনপি। 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর