,

নাসিরনগরে মূহুর্তেই  টর্নেডোর তান্ডব, সবকিছু তছনছ

news-image
তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : কিছু বুঝে উঠার আগেই মূহুর্তে টর্নেডোর ভয়াবহ ছোবল। একের পর এক গ্রামে আঘাত,সবকিছু তছনছ। ক্ষতিগ্রস্ত এমনি একটি চিএ চোঁখে পড়ল। ঘরের সামনে ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সূর্য বেগম। তার চোখে-মুখে কেবলই অনিশ্চয়তার ঝাপ। সারাদিন পেটে তেমন কোনো খাবারও পড়েনি। সময় যত গড়াচ্ছে তার দুশ্চিন্তা আর হতাশা ততই বাড়ছে। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে কোথায় এবং কীভাবে থাকবেন সে চিন্তায় বারবার একের পর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সদর ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোতে সূর্য বেগমের ছোট্ট একাচালা টিনের ঘরটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সূর্য বেগম বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের শামীম মিয়ার স্ত্রী। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই মাস ধরে স্বামী শামীম মিয়া কর্মহীন হয়ে আছেন। সংসার চলছে কোন রকমে ধার-দেনা করে। এ অবস্থায় টর্নেডোর ছোবলে মাথা গুজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে যেন সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে সূর্য বেগমের পরিবার।
সূর্য বেগমের মতো এমন আরও অনেক পরিবার টর্নেডোর ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন
খোলা আকাশের নিচে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে এমনিতেই মানবেতর দিন কাটছে নিম্ন আয়ের এসব পরিবারগুলোর। এর মধ্যে টর্নেডোর আঘাত যেন মরার ওপর
খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল সোয়া আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে
হঠাৎ করে জেলার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনি-বুড্ডা ও নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এবং বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর ও আশুরাইল গ্রামে টর্নেডো আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই টর্নেডোতে গ্রামগুলোর অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অনেক ঘরের চালাও উড়ে যায়। সড়কের অনেক গাছপালা ও নদীতে থাকা বেশ কয়েকটি নৌকাও ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিন নাসিরনগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে ঘুরে
টর্নেডোর ভয়াবহ তান্ডডব দেখা গেছে। সড়কে ভেঙে পড়ে আছে গাছপালা, আর গাছের
আগায় ঝুলছে ঘরের চালা। ঘর-বাড়ি হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময়
কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। কারো ঘরেই খাবার নেই। সবকিছুই উড়িয়ে নিয়ে গেছে টর্নেডো।
টর্নেডোর বর্ণনা দিয়ে সূর্য বেগম বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমি চুলায়
ভাত বসিয়েছিলাম। ঘরে আমরার বৃদ্ধ শ্বশুর বরজু মিয়া ও ছোট চার মেয়ে ছিল। আমার
স্বামী কাজের সন্ধানে ঢাকায় গেছেন। হঠাৎ করে দেখি আকাশে আগুনের মতো কিছু
একটা। আমি ভয় পেয়ে আমার কোলের শিশুকে ধরতে গেছি। সবাইকে নিয়ে ঘরে থেকে
বের হওয়ারও কোনো সুযোগ পাইনি। এর মধ্যেই দেখি আমাদের ঘর উড়ছে। হাড়ি-পাতিল
সবকিছু নিয়ে গেছে। আমার দুই মেয়ে ব্যাথা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে কিছুই খাইনি, খাবা-দাবার সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে
গেছে। দুপুরেও রান্না হয়নি। টাকা-পয়সাও নেই যে নতুন করে ঘর তৈরি করব। স্বামীকে
খবর দিয়েছি, তিনি ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন। আপাদত কয়েকদিন আত্মীয়-স্বজনদের
বাড়িতেই থাকতে হবে।
একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত আউশ মিয়া জানান, টর্নেডোতে তার দুইটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। এই ঘর দুটিতেই পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। এখন পরিবার নিয়ে কোথায়
থাকবেন, কী খাবেন সেই দুশ্চিন্তা ভর করেছে তার মনে। সরকারের কাছে তাদেরকে
পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
ব্যাপারে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা
আশরাফী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা
তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা