,

ইসলামে বর্ণবাদী আচরণ নেই

news-image

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ : শান্তির ধর্ম ইসলামে বর্ণবাদী কোনো আচরণ নেই। সাদা-কালোয়, ধনী-গরিবে, উঁচু-নিচুতে কোনো তারতম্য কিংবা শ্রেষ্ঠ-নিকৃষ্টের পার্থক্য করেনি ইসলাম এবং এগুলো ভালো-মন্দের কোনো মানদন্ডও নয়।

নবীজি (সা.) বলেছেন, কৃষ্ণের ওপরে শেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেন, হে লোক সকল, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহতায়ালার কাছে অধিকতর সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী, যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে, সব বিষয়ে আল্লাহর কথা অধিক খেয়াল রাখে।

এখানে নবীজি (সা.) কতো স্পষ্ট করে বলে দিলেন, মানুষ বাহ্যত যতো সুন্দরই হোক, তার মধ্যে যদি আমল না থাকে, আল্লাহ নির্দেশিত পথ ও রাসুলের আদর্শ না থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে সে অন্য আর দশজনের মতই। শ্রেষ্ঠ কেবল সে-ই, যে আমলে উত্তীর্ণ। এছাড়া সবাই সমান।

পবিত্র কোরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে, হে মানবজাতি, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালার কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত, যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ ও সবকিছুর খবর রাখেন। (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১৩)

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এখানেও প্রতীয়মান হয়। অন্যান্য ধর্ম যেখানে বর্ণের আচরণের আহ্বান করে, সেখানে ইসলাম তা প্রত্যাখান করে।

মুয়াজ্জিনে রাসুল কৃষ্ণাঙ্গ হজরত বেলাল (রা.) কোনো মুসলমানের কাছে অবজ্ঞার পাত্র হননি। একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়ায় এবং অধিকতর আমল করায় তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের আসনে ভূষিত হয়েছিলেন।

নবীজি (সা.) বলেছেন, আমি মে’রাজে জান্নাতের মধ্যে বেলালের পদধ্বনি শুনতে পেয়েছি।

ইসলামের এমন উদারতা ও উচ্চ দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই অনেক বিধর্মীরাও এই ধর্মের প্রতি অবলীলায় নিজের ভালো লাগা ও মুগ্ধতার কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।

বিখ্যাত ইংরেজ পণ্ডিত জর্জ বার্নার্ড শ ইসলাম ও নবীজি (সা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘চমৎকার প্রাণবন্ততার কারণে মোহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, আমি মোহাম্মদকে নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা করেছি। তিনি অতি চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রিষ্টানবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে’। (Sir George Bernard Shaw, ÔThe Genuine IslamÕ, Vol. 1, No. 8, 1936)

আসলেও তাই, নবীজি (সা.) উদারতার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। হিংসা-বৈষম্যকে নির্মূল করার চেষ্টা করেছেন। কারণ, মানুষের আচরণে যখন বর্ণবাদ এবং সাদা ও কালোর ভেদাভেদ চলে আসে, তখনই সমাজ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার টুকুও হারাতে থাকে।

তাই আসুন, আমরা সাদাকালোর ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ইসলামের ছায়াতলে শান্তি ও শৃঙ্খলার সমাজ বিনির্মাণে ব্রত হই।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা