,

মাছ ধরার নামে ক্যানেলের মুখে বানা: পানির নিচে ৮ হাজার একর বোরো ধানের জমি

news-image

সোহেল রশীদ,রংপুর : রংপুরের বদরগঞ্জের দামোদরপুর ইউনিয়নে একটি প্রভাবশালী চক্রের লোভে সর্বনাশের মুখে পড়েছে শত শত বোরো চাষি। পানি প্রবাহের ক্যানেলের মুখে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় প্রায় আট হাজার একর জমির উঠতি বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় চাষিরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চাষিদের সর্বনাশের এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের সৌলারবিলসহ ১০ গ্রামে। চাষিদের দাবি, দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে তারা ধান ঘরে তুলতেই পারবে না বলে আশঙ্কা করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর মৌজায় সৌলারবিল, সিন্দুরের ডোবা, সিংগীমারী, হরিণ চোরা, দারছিড়া, ভেলাকোবা, ডাংগীরদোলা ও টোকনারবিল এলাকার প্রায় আট হাজার একর জমির উঠতি বোরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা না করায় স্থানীয় কৃষকরা পড়েছেন সর্বনাশের মুখে। ওই এলাকায় উজান থেকে বয়ে আসা বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে ক্যানেল দিয়ে পাশের চিকলী নদীতে প্রবাহিত হয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে বোয়ালিরপাড় ও জলুবার এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র পানি প্রবাহের মুখে মাছ ধরার বানা ও ক্যানেলে মুখ ভরাট করে চাষাবাদ করছে। এতে পানি নেমে যেতে পারছে না। ফলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে আছে বোরো ধানের ক্ষেত।

চাষিদের অভিযোগ ওই এলাকার বাবুল হোসেন, ফারুক হোসেন, দুলাল মিয়া, সাইদুল হক ও সাত্তার মিয়াসহ আরো কয়েকজন জোটবদ্ধ হয়ে পানি প্রবাহের মুখে মাছ ধরার বানা বসিয়েছেন। এছাড়াও তারা ক্যানেলের মুখ ভরাট করে রেখেছে। এ কারণে বোরো ধানের জমির পানি সরছে না। ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় শতশত কৃষক পড়েছেন মহাবিপাকে। এরমধ্যে তলিয়ে যাওয়া পানিতে কেউ কেউ মাথা ডুবিয়ে ধান কাটার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।

সিন্দুরের ডোবা এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ চাষি রুহুল আমীন (৪৫) বলেন, ‘পাকা ধান কাটার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানি নামতে না পারায় এখন আমাদের সব শেষ। এতে এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারবো না। এবার মনে হয় আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, একটি চক্রের সামান্য লোভের কারণে আমাদের মত এতগুলা গরিব কৃষক সর্বনাশের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, আমার ৭৮ শতাংশ জমির পাকা ধান এখন পানিতে ডুবছে।

সৌলারবিল এলাকার ধান চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাষনের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। কেউ সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেনি। উপায় না পেয়ে ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু এতেও কোন কাজ হচ্ছে না।
চাষিদের ক্ষতির কথা স্বীকার করে দামোদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ‘এ নিয়ে বহুবার সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটি চক্র মাছ ধরার নামে পানি প্রবাহের মুখে বানা দিয়েছে। এতে পানি নামতে পারছে না। এমনকি প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি অবগত করেছি। এখন আইনগত পদক্ষেপ ছাড়া এর সামাধান হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে বলা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা