,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে করোনা আতঙ্কে ফাঁকা হাট বাজার

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বাড়ছে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাতদিন মাঠে কাজ করছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আশুগঞ্জে করোনার প্রভাবে নিন্ম আয়ের মানুষের জন-জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দুদর্শা আর দুচিন্তা কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা তাদের। আশুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে করোনা আতঙ্কের কারনে আজ মানুষ হাট বাজার থেকে শুন্য প্রায় খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া সারাদিন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের , চায়ের দোকান বন্ধ করে দেয়ায় বেকার জীবন যাপন করছে নিম্ন আয়ের মানুষরা বাইরে বের হলেও তাদের চোখমুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যাত্রী পাচ্ছেন না অটোরিকশার চালকরা। কাজ না পেয়ে বসে বসে সময় কাটছে দিন-মজুরদের।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,আশুগঞ্জ করোনা ভাইরাস আতঙ্ক দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে সবাই প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ব্যক্তি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে আশুগঞ্জ । খুব প্রয়োজন ছাড়া সারাদিন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই।

আশুগঞ্জ বাজারে চা বিক্রেতা মো.জামাল মিয়া বলেন, দুপুরের দিকে প্রতিদিন দোকানে ভিড় থাকে। একদিন ধরে রাস্তায় মানুষ খুব কম। তাই বিক্রিও কমে এসেছে। এই দোকানের আয় থেকে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। পাশাপাশি দোকান চালানোর জন্য দুটি সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছি। সেখানে একটিতে সপ্তাহে ১ হাজারর ৭শ টাকা ও অপরটিতে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়।

ব্যবসায়ী কবির মিয়া.বলেন এ অবস্থা যদি বেশিদিন চলতে থাকে তাহলে আমাদের তো অনাহারে দিন কাটাতে হবে। সেই চিস্তা করতে করতে আমরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়ছি।

কামার পট্টি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাউসার জানান, আমাদের নিজেদের কোনো টাকা নেই। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দোকান পরিচালনা করি। ঘরে থাকতে হলে তো দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তখন ঋণের কিস্তি শোধ করবো কীভাবে?

যাত্রাপুর বাজারে চা বিক্রেতা মামুন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন দোকানে ভিড় থাকে। কয়েকদিন ধরে রাস্তাায় মানুষ খুব কম। তাই বিক্রিও কমে গেছে। এই দোকানের আয় থেকে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। এখন তো চায়ের দোকানও বন্ধ।

একই বাজারের চায়ের দোকানদার শফিক মিয়া বলেন। পাঁচ সদস্যর পরিবার তার। চা বিক্রির পরই তাদের জীবন ও জীবিকা নির্ভর। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এখন আর তেমন চা বিক্রি হচ্ছে না। কি খেয়ে বাঁচবেন তা নিয়েই তিনি দিশেহারা।

দিনমজুররা জানান, কেউ আমাদের কাজে নিচ্ছে না। আমারা এখন কিভাবে সংসার চালাবো তাই ভেবে পাচ্ছিনা। সরকার থেকে আমাদের যে সকল নির্দেশনা দিয়েছে আমরা তাও পালন করছি। কিন্তু আমরা তো নিম্ন আয়ের মানুষ সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায় সংসার কিভাবে চালাবো?

সরকার যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের মত কিছু নিম্ন আয়ের মানুষের দিকে কোন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত তাহলে আমাদের কষ্টটা একটু লাঘব হত।

করোনা পরিস্থিতিতে তাদের এই দূর্দশা থেকে মুক্তি পেতে একান্ত প্রয়োজনে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করার আবেদন জানান সর্বস্তরের সাধারন জনগণ।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা