,

করোনা ঝুঁকি : দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বন্ধ

news-image

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি : গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকায় সর্বসাধারণের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় বন্ধ করে দেওয়া হয় পল্লীর প্রবেশপথ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।

সরেজমিন শুক্রবার দুপুরে দেখা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার দিন দিন বেড়ে চলায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে মানুষের আসা-যাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কোনো সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পল্লীতে যাতায়াত করছে।

এ সময় কয়েকজন যৌনকর্মী বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে এখানে আছি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আসা-যাওয়া করে। কে অসুস্থ আর কে সুস্থ এটা বোঝা তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আমাদের কাছে যে আসে তাকেই তো ঘরে নিতে হয়। বর্তমানে করোনাভাইরাস আতঙ্কে এখানে লোকজনের সমাগম কমে গেছে।’

নাম প্রকাশ না করে একাধিক যৌনকর্মী জানান, পুলিশ পল্লীতে খদ্দের আসা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা চোখে অন্ধকার দেখছেন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। ঘর ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ কীভাবে নির্বাহ করবে তারা ভেবে পাচ্ছেন না।

তারা দাবি করেন, বন্ধ করার সিদ্ধান্তের আগে তাদের খাওয়া-পড়া কীভাবে চলবে তার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ফকীর বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ৬টি প্রবেশ পথের মধ্যে ৫টি পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি পথ খোলা রাখা হয়েছে। বন্ধকালীন সময়ে এখানকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের সহযোগিতা না করা হলে এখানে মানবিক বিপর্যায় দেখা দিতে পারে।

যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির প্রকল্প কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান মঞ্জু বলেন, যেভাবে সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের মতো মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে তাতে করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অবস্থার বিবেচনায় বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। তবে এখানকার শত শত বাসিন্দা আছে, যারা প্রতিদিন রোজগার করে প্রতিদিন খায়। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা না করা গেলে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লী অবশ্যই চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সর্বসাধারণের যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। এ পল্লীতে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬শ জন যৌনকর্মী বাস করে। বন্ধকালীন সময়ের জন্য প্রতিজনকে ১৫ কেজি চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া বন্ধকালীন সময়ে বাড়িওয়ালাদেরকে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে বাড়িভাড়া না নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা