,

রংপুরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে নারী শ্রমিকরা : আইন থাকলে বাস্তব প্রয়োগ নেই

news-image

রংপুর ব্যুরো : ‘জগতে যা কিছু মহান চির কল্যান কর, অর্ধে করিয়াছে নারী আর অর্ধেক তার নর’। সেই নারীরা আজ কর্ম ক্ষেত্রে অবহেলীত। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঘটা করে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, নারীদের নিয়ে সভা সমাবেশ অনেক কিছুই হয়। বক্তারা বক্তব্য দেন। কিন্তু শ্রম আইন এর বাস্তব প্রয়োগ রংপুর মহানগরীসহ জেলায় নেই বললেই চলে। ফলে চরম মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে রংপুরের নারী শ্রমিকরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রংপুর নগরীর ছয় থানা, তেত্রিশটি ওয়ার্ডসহ জেলার আট উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে পুরুষ শ্রমিকের পাশা পাশি নারী শ্রমিকেরা কাজ করছে। বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে নারী শ্রমিকের কদর বেশী হলেও বৈষম্যে থেকে তারা রেহাই পাচ্ছে না। নারী শ্রমিকরা হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর ন্যায্য মজুরী থেকে বঞ্চিত হয়ে অতি কষ্ঠে জীবন যাপন করছে। ধান লাগানো, মাটি কাটা, হোটেলে রান্না, রাইচ মিল, চাতাল, বিড়ি ফ্যাক্টরী, ইটভাটা, রাজমিস্ত্রীর জোগালী, পাথর ভাঙ্গার কাজ সহ সব রকম ভারী কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা সফলার সাথে কাজ করলেও মালিকদের কাছ থেকে ন্যায্য মজুরী পাচ্ছে না নারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরের অধিকাংশ নারী শ্রমিক স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা, কেউবা অধিক সন্তানের জননী আবার কারও স্বামী পঙ্গু। অভাবের তারনায় তাদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। বিনিময়ে মালিকরা যা দেয় তা দিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। যদি কেউ মজুরী নিয়ে প্রতিবাদ করে তবে তাদের কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। নারী শ্রমিক মমেনা বেগম, রাজিয়া সুলতানা ও নুরী বেগম জানান, পুরুষ শ্রমিক যেখানে একই কাজ করে পায় ৩০০টাকা সেখানে নারী শ্রমিকরা পায় ২০০ টাকা। ফলে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। কিন্তু কিছুই করার নেই। কারণ অভাবে ভরা আমাদের সংসার। যা পাই তাই দিয়ে কোন মতে বেঁচে থাকি, খেয়ে না খেয়ে।

একটি বে-সরকারী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী জানাগেছে, রংপুর মহানগরীসহ আট জেলায় প্রায় তিন লাখ নারী শ্রমিক কাজ করছে। যারা শ্রম আইনের আওতায় নেই বরং বৈষম্যের শিকার। সভ্যতার বিকাশে নারীর অবদানের জয়গান শোনা গেলেও রংপুরে নারী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শ্রমের মর্যাদা ধুলোয় লুটিয়ে মিশে যেতে বসেছে। যত বৈষম্যে সব যেন শুধু নারীরই জন্য। নারী শ্রমীকদের ন্যায্য অধিকার ফিরে দিতে শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন।

রংপুর জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান রোজী রহমান বলেন, দেশের সর্ব্বোচ্চ স্থানে নারীরা শাসন করছে। শেখ হাসিনার সরকার নারীবান্ধব সরকার। অথচ এদেশে এখনও নারীরা মজুরী বৈষম্যের শিকার। সরকারকে এদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। তাহলে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা