,

পঞ্চগড়ে তীব্র শীতেও বরফগলা মহানন্দা নদীতেপাথর তুলছেন শ্রমিকরা

news-image

রংপুর ব্যুরো : দেশের সর্ব উত্তরের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্ত উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৌষ মাসের তীব্র শীতে সাধারণ মানুষ যেখানে ঘর থেকে বের হওয়া দায় সেখানে উপজেলার মহানন্দা নদীর পানিতে চোখে পড়ছে হাজারো শ্রমিকের কর্মস্থান। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বরফগলা পানিতে নেমে জীবিকার সন্ধানে ছুটছেন তারা। আর এ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মাহানন্দা নদীকেই কর্মস্থল মনে করছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।

মাহানন্দা নদী হিমালয় থেকে বয়ে আসা বরফগলা পানি দিয়েই দু’দেশকে ভাগ করেছে। আর এই সীমান্ত নদী মহানন্দায় বরফগলা পানিতে নেমে হাজার-হাজার শ্রমিক নুড়ি-পাথর উত্তোলন করছে। একজন শ্রমিক গড়ে ৫ এসএফটি পাথর তুলতে পারে। আকার ভেদে প্রতি এসএফটি পাথর ৬৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন মজুরি হিসেবে ২ থেকে ৩শ টাকা পায় একেকজন শ্রমিক। আর এটাই তাদের পরিবারের চাবিকাঠি।

জানা যায়, দেশ ভাগের পর থেকেই তেঁতুলিয়া উপজেলার দরিদ্র শ্রমিকেরা নদী থেকে নুড়ি-পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাই উপার্জনের অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই কনকনে শীতেও শ্রমিকরা নুড়িপাথর উত্তোলন করতে নেমে পড়ছে নদীতে।মহানন্দা থেকে পাথর তুলে পাড়ে তোলা হচ্ছেসরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীর ১৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শ্রমিকরা দলবেধে বাতাসে ফুলানো গাড়ির চাকার টিউব, লোহার চালনি, পাথর শনাক্তের জন্য লোহার রড নিয়ে বরফগলা পানিতে নেমে নুড়িপাথর উত্তোলন করছেন। পরে পানিতে ভাসানো টিউবের ঢাকিতে করে সে পাথর দু’কাঁধে ভারে করে তীরে এনে জমা করেন। সন্ধ্যায় মহাজনের কাছে বিক্রিলব্ধ টাকায় জোটে আহার।জানা যায়, প্রকৃত অর্থে দরিদ্র এই মানুষগুলোর কাছে এখনো পৌঁছায়নি কোনো শীতবস্ত্র। জীবনযুদ্ধে এ অসহায় মানুষগুলো ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত নদীর বরফগলা পানিতে দিনভর যুদ্ধকরে কোনো মতে বেঁচে আছে। অসহায় এসব মানুষেরা রাতযাপনের জন্য শীতবস্ত্র হিসেবে বিত্তবানদের দেওয়া কিছু বস্ত্রের দিকে চেয়ে আছেন।

তেঁতুলিয়ার মোমিনপাড়া এলাকার পাথর শ্রমিক হাসিবুল ইসলাম জানান, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শৈত্যপ্রবাহ সব কিছুই উপেক্ষা করে আমাদের জীবিকার খোঁজে প্রতিদিন নদীতে আসতে হয়।
আবু সাঈদ নামে আরেকজন জানান, এত কষ্টের পরেও সব উপার্জনে জীবিকার খোঁজে নদীতে নামছি। এসময় বিত্তবানরা অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছে না, আমাদের দিন কামাই করে রাতে খেতে হয়। কিন্তু এই নদীতে নামতে গেলে বিভিন্ন বাধার সম্মুক্ষিণ হতে হচ্ছে। একদিকে বিএসএফের বাধা অন্যদিকে বিজিবির।দুঃখের সঙ্গে শেষ কথাটি জানালেন হবিবর নামে আরেক শ্রমিক। গরিব অসহায় হিসেবে আমাদের বেঁচে থাকাটাই বড় কষ্ট ও দুঃখের

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা