,

সরাইল ওসি’র কথায় মুগ্ধ হয়ে ফিরে এসেছি : তাহেরী

news-image

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ও সদরের সৈয়দটুলা গ্রামে শুক্রবার রাতে মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী দু’টি মাহফিলে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু ওই দুই মাহফিলে হাজারো ভক্ত গভীররাত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি। পরে মাহফিল দু’টির আয়োজকদের জানানো হয় “তিনি রাতে যথাসময়ে মাহফিলের কাছাকাছি পৌঁছালেও পুলিশের কথায় রাস্তা থেকেই ফিরে যান।”

এ বিষয়ে রাতে সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো এ প্রতিবেদককে জানান, ওই দুটি মাহফিল ঘিরে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এছাড়াও মাহফিল দুটিতে প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছিল না।এলাকায় আইনশৃংখলা অবনতির আশঙ্কায় রাতে মহাসড়কে মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী’র গাড়ি থামিয়ে তাঁকে মাহফিল দুটিতে অংশগ্রহণ না করার জন্য বলা হয়। তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে ফিরে যান।

এ ব্যাপারে জানতে রাত সাড়ে ১১টায় মুফতি তাহেরীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। এই দেশে আল্লাহ-রাসূলের নামে ওয়াজ করতে গেলেও বাধা, এটা দুঃখজনক। এলাকার গরীব লোকজন সারাবছর কালেকশন করে (চাঁদা তুলে) এই মাহফিলের আয়োজন করেছেন। পুলিশ আমাকে মাহফিলে যেতে দেইনি। মুফতি তাহেরী বলেন, আমার জানা মতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৭ জন বক্তার ওয়াজ মাহফিল মনিটরিং করতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে বাধা দিতে বলা হয়নি। সেই তালিকায় আমার নাম নেই। আমি তাহেরী সরকার ও রাস্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলি না। আমার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতির আঘাত এনে দায়ের করা মিথ্যা মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে সরকারের কোন দফতর বা আদালতে কোনো অভিযোগ নেই। তারপরও আমাকে মাহফিলে যেতে দেওয়া হয়নি। রাত অনুমান ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার প্রবেশ মুখ থেকে পুলিশ আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমি সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো’র কথায় মুগ্ধ হয়ে, তাঁকে সর্বোচ্চ সন্মান দেখিয়ে মাহফিলে না গিয়ে রাস্তা থেকেই ফিরে এসেছি।

“কে এই মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী ? ”

‘খাবেন?’ ‘ঢেলে দেই?’ ‘ভাই পরিবেশটা সুন্দর না? কোনো হইচই আছে? এই শব্দগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটিজেনরা ছবি পোস্ট করলেই এসব ক্যাপশন দিচ্ছেন। বাংলাদেশের ফেসবুক প্ল্যাটফরম ঘাঁটলেই এমনটা দেখা যাচ্ছে। এ বাক্য চারটির বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী।
তাহেরীর ওয়াজে দেখা যায় তিনি বক্তব্যের শুরুতেই মজা করেন উপস্থিতিদের সঙ্গে। সম্প্রতি তার একটি ওয়াজের অংশ বিশেষ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘কেউ কথা কইয়েন না, একটু চা খাব?
খাই একটু? আপনারা খাবেন? ঢেলে দেই? ঢেলে দেই? … ‘ভাই পরিবেশটা সুন্দর না? কোনো হইচই আছে? আমি কি কাউকে গালি দিয়েছি? কারোর বিরুদ্ধে বলতেছি? এরপরও সকালে একদল লোক বলবে, তাহেরী বালা না।’

জানা যায়, দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জিকিরের সময় নেচে-গেয়ে ‘বসেন বসেন, বইসা যান’ বলায় সমালোচিত হন তাহেরী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে তৈরি হয়ে নানা ট্রল ও ভিডিও। এরপর কিছুদিন ওয়াজ বন্ধ রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি ফের আলোচনায় এলেন এই বক্তা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাহেরী নামেই তিনি পরিচিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। তাঁর পারিবারিক ইতিহাস ও বংশগত পরিচয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।
তবে তিনি নানা বিতর্কের মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন। যদিও তিনি তাঁর সম্পর্কে বিতর্কের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাচ করার যে অভিযোগ রয়েছে এসব তিনি ক্যামেরার কারসাজি বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘেঁটে জানা যায়, ২০১৩ সালে নরসিংদীতে গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর ওয়াজে ‘তাবলীগের লোকদের কাফের বলে গালাগাল, আলেম-ওলামা সম্পর্কে এবং শরীয়তের পীর-মাশায়েকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য’ নিয়ে রায়পুরার অলিপুরা শাহেরচর ও বড়চর গ্রামে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশত শটগানের ফাঁকা গুলি ও ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ওই ঘটনায় একটি মামলাও হয়।

উত্তরবঙ্গের একটি জেলায় সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ‘পোলা তো নয় সে যে আগুনের গোলা রে’ গানটি নেচে-গেয়ে উপস্থাপন করায় ইসলামী আলোচকদের সমালোচনার মুখে পড়েন তাহেরী।

অপরদিকে স্থানীয় একদল লোকেরা বলছে, গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী একজন লাল পাগড়ি ও লাল আলখেল্লা পরিহিত ভণ্ডপীর। রায়পুরার মাস্তানগঞ্জ নামক একটি মহল্লায় খাজা বাবার দরবার নাম দিয়ে এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি আস্তানা গড়ে তুলেছে। এ আস্তানায় সার্বক্ষণিক আড্ডা দেয় এলাকার বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত লোকজন। তবে ঘটনার সত্যতা কতটুকু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গণমাধ্যমগুলো বলছে, গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী তার বক্তৃতায় তবলীগের লোকদের কাফের বলে গালাগাল করে এবং আলেম ওলামা সম্পর্কে ও শরীয়তের পীর মাশায়েকদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে।
গত ১৫ জানুয়ারি ছাদেক চেয়ারম্যান ও এলাহী মেম্বার মিলে অলিপুরা গ্রামে গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরীকে প্রধান বক্তা করে এক জলসার ঘোষণা দিলে এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারা আত তাহেরীর আগমন বন্দের দাবিতে মিছিল করে রায়পুরা প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়।

জানা যায়, রায়পুরা থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম মুসল্লিদের আশ্বাস দিলে তারা চলে যায়। পরে অলিপুরা ব্রাহ্মণবধুয়া, চান্দেরকান্দী, নবীয়াবাদ, রাধানগর, শাহেরচর ও বরচর গ্রামের ধর্মপ্রাণ লোকেরা একত্রে মিলিত হয়ে ভন্ড পীরের আগমন রোধে আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করে। এলাকার মুসল্লীদের পক্ষে মাওলানা নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে রায়পুরার অলিপুরায় গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরীর আগমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রায়পুরার সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০/২০১৩। এ মামলায় বিজ্ঞ সহকারী জজ সাইদুজ্জামান শরীফ, বাদী পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনাস্থলে আত তাহেরীর জলসা স্থগিত ঘোষণা করে এবং কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না এ মর্মে কারণ দশানোর নোটিশ জারি করেন।

গত ২৫ আগস্ট কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার বিচারের দাবিতে ভৈরবে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। সেই মানবন্ধনে অংশ নিতে দেখা যায় তাহেরীকে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা