,

‘বুলবুল’র তাণ্ডবে কৃষকের মাথায় হাত

news-image

খুলনা প্রতিনিধি : বুকভরা আশা নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। কয়েক দিন আগেও সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম। ধান প্রায় পেকেও আসছিলো। কিন্তু সে স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে গেছে। সংসার পরিচালনার সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে সব শেষ হয়ে গেছে।

সোমবার (১১ নভেম্বর) খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার বাজুয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনোরঞ্জন বৈদ্য এসব কথা বলেন।

কৃষক মনোরঞ্জন বৈদ্য বলেন, মাথায় হাত দিয়ে হতাশা ও দুশ্চিন্তায় সময় ক্ষেপণ ছাড়া এখন অন্য কোনো উপায় নেই।

একই উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা ইমরান আলম বলেন, বুলবুলের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিক্ষেত, শীতকালীন সবজি, ধানের ক্ষেতে। পানিতে সব তলিয়ে গেছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। এ যেন পাকা ধানে মই দিয়ে গেলো ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

এ উপজেলার মতো একই অবস্থায় কয়রা, ডুমুরিয়া, রূপসা ও পাইকগাছার। বুলবুলের প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পাকা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে না পারলে ফলনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় ক্ষেতের ধান হেলে মাটির সঙ্গে বিছিয়ে পড়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার পাঁচ নম্বর আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নয় নম্বর কুলবাড়ীয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না বলেন, বুলবুলের তাণ্ডবে জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। লালশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক, করল্লা, উস্তে, ক্ষিরা, বেগুন, মুলাসহ বিভিন্ন গাছ বাতাসের তোড়ে কাঁত হয়ে জমিতে পড়ে রয়েছে। শীতকালীন সবজি ও আমন ফসলের জমিতে পানি জমে আছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডুমুরিয়ার কুলবাড়িয়া, বরাতিয়া, গোবিন্দকাঠি, মঠবাড়িয়া এলাকার চাষিরা। এসব এলাকার কৃষকরা ঋণ নিয়ে জমিতে সবজির চাষ করেছিলেন। সবচেয়ে বেশি পেঁপে গাছের ক্ষতি হয়েছে। সব পেঁপে গাছ ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, ডুমুরিয়ার কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে শীতকালীন সবজির চাষ করেছেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে তাদের সে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এসব কৃষকের মাথায় হাত উঠে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক পংকজ কান্তি মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে খুলনা জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান ও ৮৬৪ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ধানে ক্ষতি হয়েছে দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটায়। আর জেলার প্রায় সব উপজেলায় সবজিতে ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ডুমুরিয়ায়। এছাড়া কলা, পান ও পেঁপেতেও ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। ক্ষতি নিরূপণ করে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, ধানের চেয়ে রূপসায় পানের বরজে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ২১৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩০ হেক্টর জমিতে পানের বরজে ক্ষতি হয়েছে। এ উপজেলায় পেঁপে বাগানের অধিকাংশ গাছ ভেঙে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শীতকালীন শাকসবজিরও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা