,

অন্ধকার ঘরে ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দী রতন

news-image

রতন মিয়ার তিন ভাই ও এক বোন। এদের মধ্যে রতন মিয়া তৃতীয়। রতন মিয়া অবিবাহিত। তিনি পড়াশোনা করেননি। বাড়িতেই কৃষিকাজ করতেন। প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ কারণে বছর তিনেক পর ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি। এর কিছুদিন পর থেকেই তাকে শেকলবন্দী করে রাখা হয়।

এই হলো কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউপির দক্ষিণ সাটিয়াদী গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী রতনের শিকলবন্দী জীবনের শুরুর গল্প। তারপর এভাবেই দক্ষিণ সাটিয়াদী গ্রামের আবদুল মোমেনের ছেলে এই রতনের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে আরো ২৫টি বছর। তার বয়স এখন ৫৫।

রতন মিয়ার বাড়ির পূর্বপাশের বসতঘরের বারান্দার একটি ছোট অন্ধকার কক্ষের মাঝখানে একটি পাকা পিলার। পিলারের সঙ্গে রতন মিয়ার ডান পা শিকল দিয়ে বাঁধা। মেঝেতে একটি বিছানায় তিনি দু’হাঁটু ভেঙে মাথা নিচু করে বসে আছেন। মাঝে মধ্যে বিরবির করে কথা বলেন। এ কক্ষেই তার খাওয়া-দাওয়া, প্রস্রাব-পায়খানা ও ঘুমানোসহ সবকিছু।

রতন মিয়ার বড় ভাই আঙ্গুর মিয়া বলেন, রতন মিয়া আর দশ জন বালকের মতোই সুস্থ ও সবল ছিল। সংসারের কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মেই করে যেত। কিন্তু প্রায় ৩০ বছর আগে তাদের জমিতে পাশের বাড়ির হযরত আলীর একটি গরু ছুটে গিয়ে ধান গাছ খাচ্ছিল। খবর পেয়ে রতন মিয়া ওই গরুটিকে ধরে বাড়ি নিয়ে আসছিল। এসময় হযরত আলী দৌড়ে এসে রতন মিয়ার হাত থেকে গরুটি নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এসময় দুজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে হযরত আলী গরু বাঁধার একটি খুঁটি দিয়ে রতন মিয়ার মাথার একপাশে সজোরে আঘাত করে। এতে রতন মিয়ার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিছুদিন পর রতন মিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে কয়েক দফা চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। চিকিৎসক বলেছেন রতন মিয়া কোনদিনই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

আঙ্গুর মিয়া আরো বলেন, বাড়িতে আনার পর তার অস্বাভাবিক আচরণ বাড়তে থাকে। বাড়ির বাইরে গেলেই লোকজনের ওপর চড়াও হয় এবং লোকজনকে মারতে শুরু করে। তাই তাকে বাধ্য হয়ে বাড়িতে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। তবে তার সেবা যত্নে কোনো কমতি নেই। হযরত আলীর বিষয়ে জানতে চাইলে আঙ্গুর মিয়া বলেন, বিষয়টি তখন গ্রামীণ দরবার শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা হয়ে যায়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে রতন মিয়ার যদি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড না থাকে তাহলে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা করে দিতে পারব। পাকুন্দিয়ার ইউএনও মো.নাহিদ হাসান বলেন, বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি দেখা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা