,

সরাইলে হিলিপ প্রকল্পের ৮১ লাখ টাকা লোপাটের পায়ঁতারা

sorailব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে “হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিলিপ) শুরুর আগেই অনিয়ম। এছাড়া প্রকল্প বরাদ্দের ৮১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা লোপাটের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এবং অর্গানাইজারের হাতে প্রকল্পকাজের মালামাল কেনার প্রথম কিস্তির ৩৬ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে নিয়মবর্হিভূতভাবে উত্তোলন করে না দেওয়ায় এলসিএস আটটি কমিটি বাতিল করেছে প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট মাঠ কর্তাব্যক্তিরা। তারা বরাদ্দের টাকা লুটপাট করতে পছন্দের লোকজন দিয়ে নতুন করে এলসিএস কমিটিগুলো গঠন করেছে। রাতারাতি ব্যাংকের আটটি যৌথ স্বাক্ষরিত সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর থেকে আগের এলসিএস কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীদের অবৈধপন্থায় বাদ দিয়ে সেখানে একাউন্ট হোল্ডার হিসেবে পছন্দের লোকদের অর্ন্তভূক্ত করেছেন প্রজেক্ট এর মাঠ কর্মকর্তারা। তারা আগের কমিটিগুলোর সকল রেজুলেশন, চুক্তিনামাসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাগজপত্র ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পাল্টে দিয়েছেন। এসব অভিযোগ এলসিএস আট কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীদের।
উপজেলা এলজিইডি দফতর সূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (হিলিপ) আওতায় সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের হাওর এলাকা চাঁনপুর-গলানিয়া রাস্তার প্রায় এক কিলোমিটার পাকা উন্নয়ন কাজের জন্য ৮১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের তদারকির দায়িত্বে আছে যৌথভাবে এলজিইডি ও হিলিপ প্রজেক্ট। তবে প্রকল্পকাজটি টেন্ডারে নয়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের অধিবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণে তা বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য স্থানীয় লোকদের নিয়ে ১৫ সদস্যের আটটি এলসিএস কমিটি গঠন করা হয়। সকল সদস্যের মতামত ও রেজুলেশনের মাধ্যমে কমিটিগুলোর সভাপতি ও সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়। প্রতিটি কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীর যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং তারা তিনশ’ টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে প্রকল্পকাজ বাস্তবায়ন করার নিয়ম আছে।  
কালীকচ্ছ এলাকার বাসিন্দা ও এলসিএস কমিটির সভাপতি মোঃ কালন মিয়াসহ একাধিক কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্পকাজ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর চিত্রা বসু প্রতিটি সদস্যের বাড়িতে ঘুরে ৮টি এলসিএস কমিটি গঠন করেন। সভাপতি-সেক্রেটারী নির্বাচনের পর ৮টি এলসিএস কমিটি অনুমোদন দেন এবং গতবছরের ১৬ নভেম্বর সকল কমিটিগুলোর সভাপতি ও সেক্রেটারীর সাথে ৩০০ টাকার ষ্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রজেক্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। প্রতিটি চুক্তিনামায় কালীকচ্ছ ইউপির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরও রয়েছে। এরআগে প্রতিটি কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীর যৌথ স্বাক্ষরে জনতা ব্যাংক সরাইল শাখায় ৮টি সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। প্রকল্প কাজের জন্য প্রথম কিস্তি বাবদ চলতি বছরের ৯ জানুয়ারী জনতা ব্যাংক সরাইল শাখার এলসিএস কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারী মোঃ একিন আলী ও ছাত্তার মিয়ার যৌথ স্বাক্ষরিত একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯২) ৪ লাখ ৯৫ হাজার, ইসলাম উদ্দিন ও এশন আলীর একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯৭) ৪ লাখ ৮৫ হাজার, আলমগীর মিয়া ও মোহাম্মদ আলীর একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯১) ৪ লাখ ৯০ হাজার, মধু মিয়া ও আঃ করিমের একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯৩) চার লাখ ৯০ হাজার, ঝর্ণা বেগম ও শামীমা বেগমের একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯৫) চার লাখ ৯০ হাজার, নাজমা বেগম ও রোনা বেগমের একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯৪) চার লাখ ৭৫ হাজার, আব্দুল রশিদ ও আব্দুল হালিমের একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৮০০) তিন লাখ ৭০ হাজার এবং কালন মিয়া ও এমদাদ খাঁর একাউন্টে (সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২৭৯৮) তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা করান প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। 
কমিটিগুলোর লোকেরা আরো বলেন, কাজ শুরুর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। গত ১৬ জানুয়ারী প্রজেক্ট অর্গানাইজার খায়রুল ইসলাম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোতালিব মিয়া মুঠোফোনে আমাদেরকে জানান, আটটি একাউন্টের চেক বই তাদের হাতে। একাউন্ট হোল্ডার সকল কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারী গিয়ে চেক বইগুলোতে স্বাক্ষর দিয়ে বরাদ্দের প্রথম কিস্তির ৩৬ লাখ টাকা ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে তুলে প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ও অর্গানাইজের হাতে দিতে। তারা নিজেরা মালামাল কিনে কাজ সম্পন্ন করবেন। এতে আমরা আপত্তি জানালে তারা রাতারাতি সম্পূর্ণ অবৈধপন্থায় এবং অন্যায়ভাবে পুরো ৮টি কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারীদের বাতিল করে দেন এবং পছন্দের লোকদের সভাপতি-সেক্রেটারী বানিয়ে সকল নিয়ম ভেঙ্গে তাদেরকে ওইসব সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরের একাউন্ট হোল্ডার করেন। এতে প্রকল্পের বরাদ্দ ৮১ লাখ টাকা লুটপাটে তাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, হিলিপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আটটি কমিটিসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কাজ শুরুর আগ মূহুর্তে হঠাৎ সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রজেক্ট এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে এসেছিলেন। সকল কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব কেন করা হয়েছে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ভাল জানেন।
হিলিপ প্রকল্পের উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর চিত্রা বসু বলেন, প্রকল্পকাজে কমিটিগুলোর সভাপতি-সেক্রেটারীর অসহযোগিতার কারণে তাদের সকলকে পরিবর্তন করে সেখানে নতুন লোককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তারা সকলেই (সভাপতি-সেক্রেটারী) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট। সকল সঞ্চয়ী হিসাবের চেক বই জেলা অফিসে জমা আছে। মালামাল কিনতে নগদ টাকার প্রয়োজন। তাদেরকে চেকে সই করার কথা বলা হয়, এতে তারা চরম আপত্তি জানান। তারা গরীব মানুষ। তাদের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কাজের সকল মালামাল আমরা (প্রজেক্ট কর্মকর্তা) নিজেরাই কিনে দিব। তারা শুধু দৈনিক মজুরীর টাকা পাবেন। সকল নিয়মনীতি মেনেই কমিটিগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখানে কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর