,

বাংলাদেশের সব রেললাইন হবে ডুয়েল গেজ

141023124108-300x186

ডেস্ক রির্পোট:রেল মন্ত্রণালয় বৃহৎ ও বড় প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে পিছিয়ে আছে। বড় বড় প্রকল্প তৈরি করুন। অর্থ কোনো সমস্যা নয়। আপনারা প্রকল্প প্রস্তাব পাঠাবেন আমরা সেটা অনুমোদন করবো। গতকাল বৃহস্পতিবার রেল মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান সরকার বাংলাদেশকে ৬ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। এই টাকা আগামী ৪ বছরের মধ্যে খরচ করতে হবে। বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করা না গেলে এ টাকা কোথায় খরচ করব। তিনি জানান, এ টাকার বৃহৎ অংশ রেল যোগাযোগ উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তাই এখন থেকেই বড় প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পেশ করুন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা বস্তি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেললাইনকে বস্তি ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। এ জন্য ট্রেন দ্রুত চলতে পারে না। তাছাড়া অনবরত এ সব স্থানে দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। যেভাবেই হোক রেলকে সুরক্ষিত করতে হবে। প্রয়োজনে দুপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে। তিনি বলেন, রেলের প্রচুর জমি ও সম্পদ রয়েছে। যে যা পারে লুটে খায়। এটা রেলের দুর্ভাগ্য।

রেল পুলিশকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রেল পুলিশ আছে, কিন্তু ক্রাইমের ক্যারেকটারও পরিবর্তন হয়েছে। তাই রেল পুলিশকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি রেলের সিকিউরিটি বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে রেলের নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের বিগত আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত আন্দোলন করতে গিয়ে আক্রমণ করল রেল ও বাসের ওপর। এ ধরনের ধ্বংসাÍক কার্যক্রম তারা শুধু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে করেছে।
রেলকে দক্ষিণাঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে রেলের যাত্রা শুরু ব্রিটিশ আমল থেকে। সেসময় রেলকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এখন বর্তমান ও আগামীর বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে এটাকে নতুনভাবে ডিমারকেশন করা দরকার। রেলমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলকে আরো কয়েকটা অঞ্চলে ভাগ করা প্রয়োজন। দেশের মানচিত্র অনুযায়ী উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিমÑ এ ৪ ভাগে ভাগ করে কার্যক্রম চালালে রেল আরো বেশি সেবা দিতে পারবে বলে আমি মনে করি।
দক্ষিণাঞ্চলে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হয়েছে। কাজেই দক্ষিণাঞ্চলে রেল যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমিকভাবে এটা আমরা আরো দক্ষিণে নিয়ে যাবো। পটুয়াখালী ও বরগুনার পায়রাবন্দর, নৌঘাঁটি, জাহাজ নির্মাণ কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো ও শিল্প গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
বিনিয়োগের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য রেলপথটাকে আরো উন্নত করা, যা জনগণের যোগাযোগকে আরো সুন্দর ও সহজ করবে, পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে।
এসময় শেখ হাসিনা রাজধানীকেন্দ্রিক আরো কমিউটার সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়ে বলেন, আরো কমিউটার সার্ভিস চালু করতে হবে যাতে সবাই কাজের প্রয়োজনে আসা যাওয়া করতে পারেন।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-গাজীপুরে এই সার্ভিস চালু আছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখন কুমিল্লা, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সঙ্গে এ সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। মানুষ যাতে ২-৩ ঘণ্টায় আসা-যাওয়া করে কাজ করতে পারে। এতে রেল আরো কার্যকর হবে, লাভজনকও হবে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
রেলওয়ে হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতাল করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কমলাপুরে চমৎকার রেলওয়ে হাসপাতাল রয়েছে। তবে সেখানে লোক যায় কম। এটি রেল হাসপাতালই থাকবে পাশাপাশি এটিকে জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ করা যেতে পারে। এতে রেলের আয়ও বাড়বে।
ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্ব যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে কানেকটিভিটি গুরুত্বপূর্ণ। এটা শুধু দেশের অভ্যন্তরের যোগাযোগ নয়। এটা আমাদের আঞ্চলিক, উপআঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সহায়তা করবে। সিলেট এয়ারপোর্টে রিফুয়েলিং ব্যবস্থার উন্নয়নে জেট ফুয়েল পরিবহনে বিশেষ ওয়াগন সংগ্রহের পাশাপাশি সিলেটের রেল সেতুগুলোকে আরো উন্নত করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
রেল কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলকে আমি সব থেকে গুরুত্ব দিই। তাই আপনাদের জন্য একটা মেসেজ।
রেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে যত রেললাইনের সব ডিজাইন হবে ডুয়েল গেজ। কারণ মাথায় রাখতে হবে, আমরা এখানেই পড়ে থাকবো না। আমাদের অর্থনীতি আরো এগোবে। আমরা আরো উন্নত হব।
জামালপুর ও গাইবান্ধার মধ্যে একটি বহুমুখী টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই টানেল রেলপথসহ বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী হবে।
একনেকে পাস হওয়া চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় শেখ হাসিনা রেলের উন্নয়নে গত সাড়ে ৫ বছরে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষে রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এখন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং রেলের মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১১-২০১৫) রেলের জন্য ১ হাজার ২১০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ, ৫০৬ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ এবং ১ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কার হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর