,

নতুন অর্থবছরের যাত্রা শুরু

financial-yearঅর্থনীতির নানা মারপ্যাচ এবং চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম অর্থবছর শুরু। অর্থবছরের শুরুতে গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন ব্যাংক বন্ধ ছিল।

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সর্বোপরি বাজেট বাস্তবায়ন- এ চার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু হলো নতুন অর্থবছর।

তবে একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও শুধুমাত্র বিনিয়োগ বাড়ানোকেই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাজেট অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধকরণ।’

তিনি বলেন, ‘সমাপ্ত অর্থবছরের (২০১৩-১৪) বড় একটা সময়জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সকল খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্বক।’

‘নির্বাচন-উত্তর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ফলে এখন বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে।’

এদিকে বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রধান দুই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- ঘাটতি মোকাবেলা তথা অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন৷ কেননা, সমাপ্ত অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। একইসঙ্গে বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যাংক ঋণ সীমিত রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, সমাপ্ত অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর রাজস্বের পরিমাণ হচ্ছে- ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। সুতরাং এ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে কি না- এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

অন্যদিকে, সমাপ্ত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল বাজেটের তুলনায় আকার বা মোট ব্যয় কমলেও বাজেট ঘাটতি এবং সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে। বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। এটা বেড়ে ৫৯ হাজার ৫৫১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বাজেট ঘাটতি বেড়েছে ৪ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে- ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটা বেড়ে ২৯ হাজার ৯৮২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের মতে, ‘বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায সরকার অধিকার হারে ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছে। এটি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ তারা বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংক থেকে পাবেন না।’

অবশ্য বাজেট পাসের সমাপনী বক্তব্যে এসব সমালোচনা ও আশঙ্কা তেমন আমলে নেননি অর্থমন্ত্রী।

‘বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান হওয়ার অবকাশ নেই’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমাদের অর্থনীতির শক্তি সামর্থ্য এবং সরকারের নেতৃত্বের চৌকষতা ও গতিশীলতায় সংশয়বাদীদের সকল সংশয় অমূলক প্রমাণ করে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। আমাদের বিশ্বাস, অনুকূল বিশ্ব ও জাতীয় বাস্তবতা আর আমাদের সকলের সমন্বিত কর্ম প্রচেষ্টায় সকল সন্দেহের অবসান হবে এবং এবারও আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবো।’

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চাভিলাষের অভাব পূর্ববর্তী ২৬ বছরে রাজস্ব আহরণ জাতীয় আয়ের হিস্যা হিসাবে মাত্র ৩ শতাংশ বেড়েছে। আমাদের বিগত পাঁচ বছরের অর্জন বিগত ২৬ বছরের অর্জনের সমান। রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য আমরা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করেছি।’

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর