,

ট্রাম্পের বন্ধুত্বের প্রতি সন্দেহ মিশ্রিত আস্থা রাখতে চান বাশার আল আসাদ

bashar-al-assad-su_1925765b-550x344আপনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০১ টা দোষ ধরতে পারেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যে-সব কথা বলেছেন তাতে তিনি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত মানুষ। তার দেশ সিরিয়া দুুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে তার সমালোচনার জের ধরে।
তবে তারপরও তিনি এমন এক কথা বলেছেন যা তাকে সব বিতর্কের উর্দ্ধে নতুন এক নেতৃত্বদানের পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর তা হচ্ছে, তিনি সিরিয়ার সমস্যার একটি আশু সমাধান চান।
সম্প্রতি বাশার আল আসাদ পর্তুগালের আরটিপি টেলিভিশন সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমাদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে। যদি তারা শুধুমাত্র আইএসকে দমন করতে চান। তাহলে রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতায় আমরা একসাথে কাজ করতে পারি।
কিন্তু, আমরা তার প্রতি সন্দেহজনক দৃষ্টিও রাখছি। একে তো তার রাজনৈতিক কোনো ইতিহাস নেই, দ্বিতীয় তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। জানি না তিনি কতটুকু তার কথা রাখতে পারবেন। কিন্তু, যাই হোক, তিনি যদি সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখতে চান তাহলে অবশ্যই আমরা প্রকৃত বন্ধু হবো।
প্রেসিডেন্ট আল আসাদ ভাবছেন ট্রাম্প এখন যদি তার কথা রাখেন তাহলে সত্যিই এতোদিনের সমস্যাগুলো খুব দ্রুত সমাধান হতে পারে। কিন্তু, আমেরিকাকে খুব সহজে বিশ্বাস করা যায় না। ট্রাম্প চাইলেও তার প্রশাসন তাকে তার মতো কাজ করতে দেবে কি-না সেও এক সন্দেহ। আমেরিকা সারা পৃথিবীতে নাক গলাচ্ছে। তারাই পুলিশ তারাই বিচারক। তাদেরকে এই মাতুব্বরী থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এখন শুধু দেখার পালা আগামী বছর ২০ জানুয়ারি থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ট্রাম্প সত্যিই কী কী পদক্ষেপ নেন। এরমধ্যে তার মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েই নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও ট্রাম্প যদি ঠিকঠাক মতো সব গুছিয়ে তার কথা রেখে চলতে পারেন তাহলে হয়তো আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নতুন দিকে মোড় নিবে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা সেই দিন কবে আসে অথবা কবে শেষ হয়।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়াযুদ্ধে এর মধ্যেই ৩ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ। আমেরিকা গৃহত্যাগীদের জায়গা দিতে চায় না, কিন্তু তারাই সৃষ্টি করেছে বিশালসংখ্যক এইসব শেকড়হীন মানুষের।
ট্রাম্প শুধু যে সিরিয়ার সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন তা নয়। তিনি রাশিয়ার প্রতিও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার সাথে আমাদের চিরযুদ্ধের অবসান করা উচিত।
পুতিনও ট্রাম্পের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরই পুতিন তাকে খুব সশ্রদ্ধ সম্মানের সাথে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সিরিয়া বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক জটিলতার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্ষেত্র। সিরিয়াকে কেন্দ্র করে হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে যেতে পারে এমনও সন্দেহ করছেন কেউ কেউ। আইএস দমনে রাশিয়ার হঠাৎ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পাশে দাঁড়ানো পাল্টে দিয়েছে সমস্ত হিসেব নিকেশ। আমেরিকা চেয়েছিল একাই মাতুব্বরী করতে। আইএস দমনের নামে তারা বরং বাশারকেই দমন করতে চাচ্ছিল।
বাশার-বিরোধী বিদ্রোহীদের হাতে তুলে দিচ্ছিল অস্ত্র। আর তার ইন্দন দিচ্ছিল ওবামা সরকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট করে বলেছেন, আইএসকে সৃষ্টি করেছে ওবামা। আর আইএসে ধ্বংসের নামে ওবামা আসলে বাশারকেই ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু, আপনি একই সাথে এমন দুজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারেন না যারা নিজেরাই পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করছে । আপনাকে অবশ্যই একপক্ষকে বেছে নিতে হবে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা