,

তারানকোকে এনেছিলেন গওহর

abdul-momen-300x225নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে: ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। এই ব্যাপারে তার অতি আগ্রহ ছিল। বিএনপি যখন কোন ভাবেই আর সরকারের সঙ্গে ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোন ধরনের আলোচনায় আসছিলেন না, বসছিলেন না তখন সরকার মনে করেছে যদি বিএনপি নির্বাচনে না আসে তাহলে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে সব চাপ আসবে সরকারের উপর। কিন্তু সেই দায় ও চাপ কোনটাই সরকার নিতে চায়নি। এই কারণে সরকার ঠিক করে যে, নির্বাচনের আগে যে করেই হোক বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। সমঝোতারও চেষ্টা করা হবে। এই জন্য বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে বসার জন্য প্রধানমন্ত্রীও চেষ্টা করেন। তখনও তারা আসছিলেন না। দেশে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে দেশটাকে অস্থির করে তুলেছিলেন। জানমালেরও অনেক ক্ষতি করেছেন। এই অবস্থায় গওহর রিজভী মনে করেন বিএনপি আলোচনায় আসছে না এবং তারা নির্বাচন করবে না এমন মনোভাব নিয়ে যেহেতু বসে আছে, তাই সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেয়া যাবে না। যে কোন ভাবেই হোক আলোচনার টেবিলে আনতেই হবে। আর এই কারণে দেশে বিএনপিকে আলোচনায় আনার সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবকে বিষয়টি জানান। তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এই ব্যাপারে চেষ্টা করারও অনুরোধ জানান। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ও সহযোগিতা চাওয়ার কারণে এবং বাস্তব অবস্থা দেখার জন্য তার বিশেষ দূত অস্কার তারানকোকে বাংলাদেশ সফরে পাঠান। তকে আলোচনা শুরু করার জন্যই পাঠিয়েছিলেন। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন যাতে হয় সেই জন্য তিনি আলোচনা শুরু করার এ্যাসাইনমেন্টেও সফল হন। তিনি আলোচনা করার জন্যই বাংলাদেশ সফর করেন এবং সেটা শুরু করেন। ঢাকায় থেকেই তিন দফা বৈঠক করান। তবে শেষ পর্যন্ত এর সমাধান দিয়ে আসতে পারেননি। ফেরার সময় বলে এসেছিলেন সমঝোতা করার জন্য। সেই অনুযায়ী পরে দুই দল আলোচনায় বসবেন এমন কথা বলেছিলেন। এরপর দুই দলের নেতারা আলোচনায় বসলেও আর সমাধান হয়নি। পরে বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন হয়। এসব কথা বলেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন।
তিনি এক সাক্ষাৎকারে এই সব কথা বলেন। তার সঙ্গে তার অফিসে কথা হয়। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি সরকারের উপর বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই বাংলাদেশে গেছেন। কিন্তু ঘটনাটা তা নয়। এটা একবারেই উল্টো। কারণ তাকে ডেকে নেয়া হয়েছিল সরকারের তরফ থেইে। যদিও সরকারের কেউ এটা বলেননি। গওহর রিজভী তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এই কাজটা করেন।
তিনি বলেন, ওই সময়ে দুই দলের মধ্যে আলোচনা শুরু না হলে ও আলোচনার পর নির্বাচন না হলে এনিয়ে সরকারকে অনেক চাপে থাকতে হত। কিন্তু এখন সরকারকে কয়েকটি দেশ আগাম নির্বাচনের জন্য চাপে রেখেছে তা রাখলেও ততটা নয়। জাতিসংঘও এই ব্যাপারে এখনই সরকারকে কোন ধরনের চাপ দিতে চাইছে না। জাতিসংঘ মনে করছে বাংলাদেশে আগামী দিনে সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য জাতিসংঘ আগ বাড়িয়ে কোন উদ্যোগ নিবে না। সরকারের তরফ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তারা সহায়তা করবে। তবে আগামী দিনের নির্বাচনের জন্য সরকার এখনই কিছু ভাবছে না। যথা সময়ে নির্বাচন হবে। এই কারণে জাতিসংঘের তারানকো কিংবা বান কি মুন কেউ এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে এখন কথা বলবেন না।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা ও তারেক রহমান কেবল নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলেন। আর বিএনপির সবাই নির্বাচনে আসতে চেয়েছিলেন। তারা চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই যা হওয়ার একটা কিছু হবে। কিন্তু নির্বাচন না করলে সেই সিদ্ধান্ত ঠিক হবে না। এই বিবেচনা করেই নেতারা নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করবেনই না এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলেন এই জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছিলেন। তারা মনে করেছিলেন সরকার শেষ পর্যন্ত সমঝোতা করতে বাধ্য হবে। সরকার যে সেটা করবে না এটা তারা বুঝতে পারেননি। এখন বিএনপির অনেক নেতাই হতাশ। তারা নির্বাচনে গেলে বিএনপির জন্য ভাল হতো বলে মনে করেন। কিন্তু একেবারেই ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় তারা হতাশ। এনিয়ে শুনেছি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের উপর দলের সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। তবে তারা এখনই কিছুই বলছেন না। ভেতরে ক্ষোভ পুষে রেখেছেন।
আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘ চাপ দিতে পারে কি না এই প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, এমন কোন সম্ভাবনা এখনও নেই। কারণ জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে কোন আপত্তি দেয়নি। বা এমন কোন কথা বলেনি যে এখনই আগাম নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভেতরেই ষড়যন্ত্রকারিরা রয়েছে যারা কিনা কিছু হলেই বলে জাতিসংঘ বাংলাদেশ থেকে সৈন্য নেবে না। যারা আছে তাদেরেকও নাকি ফেরত পাঠাবে। এটা শতভাগ একটা ভুয়া প্রচারণা। বাংলাদেশের সৈন্য ফেরত পাঠানোর কোন সম্ভাবনা নেই। উল্টো এখানে সৈন্য সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। সেই হিসাবে কাজ করছি। আগামী বছরেই আরো এক হাজারের বেশি সৈন্য এখানে আসবে। এছাড়াও আরো অনেক দিক থেকেই আমরা সুবিধা পাবো। সুতরাং যারা বলে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন না দিলে জাতিসংঘ সৈন্য ফেরত পাঠাবে এগুলো সম্পূর্ন মিথ্যে প্রচারণা। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসলে ও জাতিসংঘের শর্ত মেনে না নিলে জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশের সৈন্য ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই ধরনের কথা ২০০৯ সালের পর বার বারই এসেছে। যখন কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তখনই এটা বলা হয়েছে। আগাম নির্বাচন দিনে না হলেও আগামী দিনে জাতিসংঘ এই ধরনের হুমকি দিতে পারে কিংবা চাপ তৈরি করার জন্য এটা করতে পারে এমন কথা গত কয়েকমাস ধরে বার বার বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে এই সব কথার কোন ভিত্তি নেই। কারণ জাতিসংঘ বাংলাদেশে রাজনৈতিক হানাহানি চায় না। চায় না কোন অস্থিরতা বিরাজ করুক। এটাও চায় না সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হোক।
ড. আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘ চাইছে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় এক নম্বর সৈন্য প্রেরণকারি দেশ, সেই দেশে অশান্তি থাকবে, রাজনৈতিক হানহানি থাকবে এমনটা না হোক বরং এমন হোক যে সেখানে রাজনৈতিক সুস্থিরতা থাকবে। গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও সকল রাজনৈতিক দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জাতিসংঘ আগেও ও এখন চায় বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র আর সেটার জন্য সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তারা চায়। এটা ৫ জানুয়ারির আগেও চেয়েছে। এনিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেই হিসাবে বিরোধী দলের ও সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের জন্য তাগিদ দিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সমঝোতা করানোর যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটা সফল করতে না পারলেও আলোচনা শুরু করার উদ্যোগে সফল হন। বাংলাদেশে সরকারকে আগাম নির্বাচন করতে হবে, না হলে জাতিসংঘ প্রশাসক নিয়োগ করে বাংলাদেশের নির্বাচন করানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেই সেক্ষত্রে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারেন এমন কথাও শোনা যায় এই ব্যাপারে আব্দুল মোমেন বলেন, এই ধরনের কথাগুলো বিরোধী শক্তিগুলো ছড়াচ্ছে। তবে এর কোন ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘ কেন প্রশাসক নিয়োগ করতে যাবে। সেই ধরনেরতো কোন পরিস্থিতি হয়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের কথাই চলবে। তারা কি সরকারকে বাদ দিয়ে জাতিসংঘের কথায় চলবে, সেটাতো না। সব দেশেই কিছু চাকরির রুল আছে তাই না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী মিশনের ব্যাপারে মহাসচিব বানকি মুন ভীষণ হ্যাপি। বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের বাংলাদেশের মানুষ যত কথা বিরুদ্ধে বলে জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের কেউ তা বলে না। বরং বাংলাদেশের একজন বড় পিআরও হলেন বান কি মুন। তিনি সব সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। এটা আসলে বাংলাদেশে বসে বোঝা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের ইমেজও সেখানে অনেক উপরে। কেবল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব টেনে এনে এটাকে নিয়ে কোন ধরনের অপপ্রচার করা উচিত নয়। তাছাড়া দেশের ভেতরকার বিরোধ বাইরের কাউকেতো জানানোরও দরকার নেই। কিন্তু সেগুলোতো হয়ে আসছে। এগুলো হওয়া উচিত নয়। দেশের সমস্যা দেশেই সমাধান করতে হবে। আর জাতিসংঘে আমাদের যে ইমেজ আছে তা ধরে রাখতে হবে এবং আরো বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। আমাদের সৈন্য মিশনে আরো কেমন করে বাড়ানো যায় সেই ব্যাপারে চেষ্টা করতে হবে। আমরা আরো কত ভাবে বেশি বেশি সহায়তা পেতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর