,

‘সেলফি’শ ব্যাধি : কী বলছেন মনোবিদরা

downloadডেস্ক রিপোর্ট : সেলফি তোলার নেশায় প্রাণ যাচ্ছে। কীসের টান, কীসের মোহে এমন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ছি আমরা? কী বলেন মনোরোগ চিকিৎসকরা

অভ্যাসটা মেয়েদের মধ্যেই বেশি
এই ঘটনাগুলো ঘটায় বয়ঃসন্ধি থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বয়সের ছেলে-মেয়েরা। বলতে গেলে এই অভ্যাসটা মেয়েদের মধ্যেই বেশি। ছেলেরাও যে করে না তা নয়। তবে সংখ্যায় কম। ৫০ বছরের কাউকেও সেল্ফি তুলতে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সেটা ব্যতিক্রম। তার মধ্যে এখন সব ফোনে ক্যামেরা থাকায় বিষয়টি খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। সবার হাতে হাতে ক্যামেরা। ক্লাস্টার-বি পার্সোনালিটি প্রোফাইল যাদের, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা সব থেকে বেশি দেখা যায়। যারা শো-অফ করতে ভালবাসে। আর একটা ধরন হলো যারা নিজেকে গুরুত্ব দিতে ভালোবাসে। নিজেদের যারা বড্ড বেশি ভালবাসে। তারাই এই ঘটনা বেশি ঘটায়। আর এটা এমন একটা নেশা যেটা কোনও স্ট্যাটাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নেই কোনো শিক্ষার স্ট্যাটাসবার। গরিব থেকে মন্ত্রীর ছেলে-মেয়ে- যে কেউ সেলফিতে মাততে পারে।

মানুষের নজর কাড়ার চেষ্টা
এটা এক প্রকার হুজুগ। সঙ্গে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। কারণ, সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা হয়তো ঘটছে, কিন্তু অতটাও ঘটছে না যাতে মানুষ ভয় পাবে। ১০০ জনে খুব বেশি হলে একটা। আমার মতে তাও নয়। যার ফলে যারাই সেলফিতে আসক্ত তারা ভাবছে তার সঙ্গে হবে না। সেলফি তুলতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন এটা মাথায় থাকছে না। সমুদ্রে কতটা গভীরে গেলে বিপদ হতে পারে সেটা বোঝা মুশকিল। তবে কিছুদিন আগে ঘটা ট্রেনের ছাদে উঠে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাটা কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বা উদ্দামতার পরিচয়। জীবনটা যখন একঘেয়ে হয়ে যায়, যখন কোনো লক্ষ্য থাকে না, তখন মানুষ সাময়িক আনন্দের জন্য ঝুঁকি নিয়ে ফেলে। কারও কারও ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। মানসিক বিকারগ্রস্থ হওয়ারও সম্ভবনা দেখা যায়। যা স্বাভাবিক চোখে ধরা পরে না। নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখানোর একটা অদম্য ইচ্ছে, সঙ্গে মানুষের নজর কাড়ার চেষ্টা। কটা লাইক এলো। না এলেই তখন অবসাদ।

নিজেই নিজেকে প্রজেক্ট করার প্রবণতা
প্রত্যেক মানুষই সেল্ফ আইডেনটিটি বা আত্মপরিচয় গড়তে চায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের সমাজ বেশির ভাগ সময়ে তুমি কী পারো না সেটাই বড় করে দেখায়। ছোট বেলা থেকে এমন পরিবেশে বড় হলে আত্মসম্মান বা সেল্ফ এসটিম তৈরি হয় না। হীমমন্যতা গড়ে ওঠে। নিজেই নিজেকে প্রজেক্ট করার প্রবণতা তৈরি হয়। স্বীকৃতি চাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লাইক’ পাওয়ার প্রবল ইচ্ছেটা আসে এখান থেকেই। এটাই পাওনা। আর এটাই নেশা হয়ে উঠছে একটা সময়। কত ভাবে নিজেকে প্রজেক্ট করা যায় ভেবে চলেছেন অনেকেই। ঝুঁকি নিয়েও নিজেকে অন্য ভাবে প্রজেক্ট করার প্রবণতা আসছে। ফলে মাঝে মধ্যেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্ব জুড়েই ঘটছে। দক্ষিণ আমেরিকায় তো র্যাটেল স্নেকের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে এক জন মারা গেলেন। নিজেকে প্রজেক্ট করার তীব্র নেশাই যার মূলে।

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর