ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন চলত, হঠাৎ অ্যাকাউন্টে মিলল ৭৮ লাখ টাকা
অনলাইন ডেস্ক : চীনের হুনান প্রদেশের ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ প্রায় দুই দশক ধরে ভাঙারি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকা ওই ব্যক্তি হঠাৎ জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৮ লাখ টাকা।
দক্ষিণ চীনের চাংদে শহরে বসবাসকারী ওই বৃদ্ধের পদবি রু। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনি পেনশন হিসাবের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক কার্ড পান। কার্ডের মাধ্যমে হিসাবের ব্যালান্স জানতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমার বিষয়টি তার নজরে আসে। এত বছর ধরে পেনশন পাওয়ার অধিকারী হলেও বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
রু প্রায় ৩০ বছর হুনান প্রদেশের একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে কর্মী পুনর্গঠনের সময় চাকরি হারিয়ে কিছু ক্ষতিপূরণ পান তিনি। সেই অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পর চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন। পরে জীবিকা নির্বাহের জন্য ভাঙারি সংগ্রহ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে চাংদে শহরে চলে যান।
২০২৪ সালের শীতকালে সমাজকল্যাণকর্মীরা তাকে একটি পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করতে দেখেন। শুরুতে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি না হলেও পরে কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সেখানে আশ্রয় নেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ২০১৫ সালে অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর থেকেই রু পেনশন পাওয়ার যোগ্য ছিলেন।
কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, তার মাসিক পেনশনের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ইউয়ান। প্রায় এক দশক ধরে সেই অর্থ জমতে জমতে তার হিসাবে ৪ লাখ ২০ হাজার ইউয়ানের বেশি জমা হয়েছে।
রু মনে করতেন, পেনশন পেতে হলে তাকে আলাদাভাবে দীর্ঘমেয়াদি বিমার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরির ৩০ বছরের সময় তার বেতন থেকেই প্রয়োজনীয় বিমা চাঁদা কেটে রাখা হয়েছিল। চীনের নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত ১৫ বছর বিমা চাঁদা দেওয়া ব্যক্তিরা অবসরের বয়সে পেনশন পাওয়ার যোগ্য হন।
ব্যাংক কার্ডে বিপুল অর্থের সন্ধান পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রু। এত বড় অঙ্কের অর্থ তার নামে জমা থাকতে পারে, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।











