,

সুস্থ থাকুক আপনার হার্ট

news-image

সচেতন জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে। হার্ট বা হৃদযন্ত্র আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি সারাক্ষণ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। রক্তের সঙ্গে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও কোষে পৌঁছায় এবং বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণেও সহায়তা করে। বিশ্রামের সময় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃদযন্ত্র সাধারণত প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ লিটার রক্ত পাম্প করে; শারীরিক পরিশ্রমের সময় এর পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ঘড়ির কাঁটার মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করলেও হৃদযন্ত্র সবসময় সুস্থ থাকবে–এমন নিশ্চয়তা নেই। আধুনিক জীবনযাত্রায় শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তামাক বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।

কেন বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি?
হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো করোনারি ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ বা প্লাক জমে ধমনির পথ সরু হয়ে যাওয়া। এই প্রক্রিয়াকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। ধমনির ভেতরের পথ সংকুচিত হলে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা তৈরি হতে পারে। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এ ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও হৃদরোগ শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়। পারিবারিক ইতিহাস, কিছু জেনেটিক কারণ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণেও অপেক্ষাকৃত কম বয়সে হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি হৃদরোগ, হার্ট ফেইলিউর, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুকের ব্যথা মানেই কি গ্যাস?
বুকের ব্যথাকে অনেক সময় গ্যাস বা বদহজম ভেবে অবহেলা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা হৃদযন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতির সংকেত হতে পারে। করোনারি হৃদরোগজনিত এনজাইনার ক্ষেত্রে সাধারণত বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। হাঁটা, দৌড়ানো, সিঁড়ি ওঠা বা পরিশ্রমের সময় ব্যথা বাড়তে পারে এবং বিশ্রামে কমে আসতে পারে। ব্যথা বা অস্বস্তি হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা ওপরের পেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে সব রোগীর উপসর্গ একই রকম হয় না। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বুকের ব্যথা ছাড়াও শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনুন
হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা কয়েক মিনিট ধরে থাকতে পারে কিংবা কমে আবার ফিরে আসতে পারে। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঝিমঝিম করা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। ব্যথা এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়াও সম্ভব।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। শুধু ব্যথা কমে যাওয়ার অপেক্ষায় বাড়িতে বসে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। হৃদরোগের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট ফেইলিউর কী?
হার্ট ফেইলিউর মানে হার্ট সম্পূর্ণভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো হৃদযন্ত্র শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারছে না। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া এবং পা, গোড়ালি বা শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি জমে ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি হৃদরোগ, হার্টের ভালভের সমস্যা, কিছু জন্মগত হৃদরোগ এবং হৃদপেশির বিভিন্ন রোগ হার্ট ফেইলিউরের কারণ হতে পারে।

মানসিক চাপ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা ও রক্তচাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পরোক্ষভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে হঠাৎ কোনো ভয় বা খারাপ সংবাদ শুনলেই যে সরাসরি হার্ট অ্যাটাক হবে–এভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়।

তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

হার্ট সুস্থ রাখতে কী করবেন?
হার্টকে সুস্থ রাখতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমাতে হবে এবং অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করতে হবে। শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম রাখার পরামর্শ দেয়। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর মাত্রা এড়ানো উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে না থেকে নিয়মিত হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস করতে হবে। শারীরিক কার্যক্রম হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু উপসর্গের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও ওজন পরীক্ষা করা দরকার। যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের জন্য ওষুধ দেওয়া হলে নিজের ইচ্ছায় তা বন্ধ করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ জাতীয় আরও খবর

পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে ইমরান খান

পাঁচ পেসারই ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত, সঙ্গে দুই স্পিনার

আটা-তেল-চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

বিষাক্ত গ্যাসে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে প্রাণ গেল আরও এক শ্রমিকের

‘আমরা খুব ভালো বন্ধু’

অল্প সময়ের ব্যবধানে মত বদলাল অস্ট্রেলিয়া, একাদশ ঘোষণায় চমক

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন বাবুল মিয়া

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, আজ বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক

মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা

নবীনগরে হোমিওপ্যাথিক সোসাইটির সম্মেলন, সভাপতি আবু হানিফ সম্পাদক কমল দেবনাথ