আরও ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু
অনলাইন ডেস্ক : বিচারপ্রার্থীদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমাতে দেশের আরও ১২ জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন জেলাগুলোতে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ই-বেইলবন্ডের আওতায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চাঁদপুর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আগে আদালত থেকে কারাগারে জামিননামা পৌঁছানো এবং আসামির মুক্তির প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ পার হতে হতো। এখন আইনজীবীরা নিজেদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইনে ই-বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। জমা দেওয়ার পর মোবাইলে ওটিপি ও নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়ার সুবিধাও থাকছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ই-বেইলবন্ড চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে আটটি এবং তৃতীয় ধাপে আরও সাতটি জেলা যুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে এর আগে ১৬টি জেলায় এই ব্যবস্থা চালু ছিল। এসব জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড নিষ্পত্তি হয়েছে।
নতুন ১২ জেলা যুক্ত হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম আরও দ্রুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।
মামলাজট কমাতে বিচারকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিচারিক উদ্যোগ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে, তাদের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান।
বক্তারা বলেন, ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।










