,

বিনিয়োগে ধীরগতি, বাড়ছে শঙ্কা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : দেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। বৈশ্বিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ প্রত্যাশিত অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা উদ্যোক্তাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে নতুন শিল্প স্থাপন বা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অনেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপের কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে আরও সতর্ক হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়েছে, আবার কেউ কেউ নতুন প্রকল্প স্থগিত রেখেছে।

ডলার সংকট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি শিল্পখাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে জটিলতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এলসি খোলা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহেও নানা বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিল্প মালিকদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন।

বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা প্রত্যাশিত ফল আনতে পারছে না। ব্যবসা শুরু ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বিনিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার আনা, সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো উদ্যোক্তাদের পুনরুদ্ধার এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা গেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসতে পারে। অন্যথায় বর্তমান ধীরগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর

রাজনৈতিক সমাধানেই কাটবে রোহিঙ্গা সংকট: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন অযৌক্তিক : হাইকোর্ট

ইচ্ছা থাকলেও পর্দা করা সম্ভব নয় : মেঘনা আলম

পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্চের আলোয় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৫০

হুতিদের থামাতে ইরানকে পাকিস্তানের কড়া বার্তা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর, তফসিল ঘোষণা

ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা

সিঙ্গেল থেকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস, ৪১টির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে

আইফোন ১৮ প্রোতে ক্যামেরায় বড় আপগ্রেড, বাড়ল দাম