,

যে কারণে সিপিআর সবার শিখে রাখা জরুরি

news-image

ডা. এম শরীফুল আলম
অনেকের আকস্মিক মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কত অপ্রত্যাশিত। জ্ঞান হারানোর কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক সময় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি কার্যকর ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেলে হয়তো ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। এ চিকিৎসা পদ্ধতির নাম কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR)।

সিপিআর শিখবেন যে কারণে : জীবন-মৃত্যুর মাঝে সময় খুব কম; ৫-৭ মিনিট। এ সময়ের মধ্যে সিপিআর দিলে রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন শুরু হয়। চিকিৎসক আসার আগেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন লাইফসেভার। বিশ্বের বহু দেশে স্কুলেই এটি শেখানো হয়। বাংলাদেশেও এই বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

সিপিআর যখন দেবেন : হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে, শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকলে, হৃদস্পন্দন বন্ধ হলে, পানিতে ডুবে যাওয়ার পর, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বা দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত পেলে।

ধাপগুলো মানুন : পরিস্থিতি ও পরিবেশ যাচাই করুন। প্রথমেই নিশ্চিত হোন আপনি এবং ভুক্তভোগী- উভয়েই নিরাপদ জায়গায় আছেন কি-না। যেমন- আগুন, ট্রাফিক, বিদ্যুৎ বা গ্যাস লিক ইত্যাদি ঝুঁকি থাকলে আগে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে আসুন। সাড়া বা জ্ঞান আছে কিনা পরীক্ষা করুন। ভুক্তভোগীর কাঁধে হাত দিয়ে জোরে জোরে বলুন : ‘আপনি কি ঠিক আছেন?’ কোনো নড়াচড়া, চোখের পলক বা সাড়া না পেলে ধরে নিন সে অচেতন। জরুরি নম্বরে কল করুন (৯৯৯)। সঙ্গে কেউ থাকলে তাকে বলুন জরুরি সেবায় কল দিতে এবং AED (যদি থাকে) নিয়ে আসতে। আপনি একা থাকলে, ফোনে স্পিকার অন করে CPR শুরু করুন এবং একসঙ্গে সাহায্যের জন্য ডাকুন। ভুক্তভোগীকে চিৎ করে শুইয়ে দিন ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন। ভুক্তভোগীকে শক্ত সমতল জায়গায় চিৎ করে শুইয়ে দিন। মাথা সামান্য পেছনে ঠেলে, চিবুক উঁচু করে নাক-মুখের কাছে মুখ রাখুন। ৮-১০ সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করুন বুক উঠছে কি-না, নিঃশ্বাসের শব্দ আছে কি-না, নিঃশ্বাসের বাতাস গালে লাগছে কি-না। শ্বাস-প্রশ্বাস না পেলে সিপিআর শুরু করুন। বুকে চাপ দিন। ভুক্তভোগীর বুকের মাঝখানে (নিপল লাইনের মাঝ বরাবর) দুই হাতের তালু একটার ওপর আরেকটা রেখে চাপ দিন। আপনার কনুই সোজা রাখুন, কাঁধ বুকের ওপরে রেখে শরীরের ওজন ব্যবহার করুন। প্রতি মিনিটে ১০০-১২০ বার গতিতে বুকের প্রায় ২ ইঞ্চি (৫ সেমি) গভীরে চাপ দিন। প্রতি চাপের পর বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে দিন। গুনে গুনে ৩০ বার চাপ দিন। মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দিন। ৩০ বার চাপ দেওয়ার পর মাথা পেছনে ঠেলে চিবুক উঠিয়ে দিন। নাক চেপে ধরে ভুক্তভোগীর মুখে আপনার মুখ লাগিয়ে ধীরে ধীরে ১ সেকেন্ডে দুইবার ফুঁ দিন। শ্বাস দেওয়ার পর দেখুন বুক উঠছে কি-না। শ্বাস দেওয়ার সময় বুক না উঠলে, মাথা-পজিশন ঠিক করে আবার দিন। চালিয়ে যান যতক্ষণ না সাহায্য আসে বা ভুক্তভোগী সাড়া দেয়। CPR চক্র চালিয়ে যান।

টিপস : শিশু বা নবজাতকের ক্ষেত্রে বুকের চাপ হালকা ও দুই আঙুল দিয়ে দেওয়া হয়। যদি মুখে শ্বাস দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে শুধু বুকের চাপ দিয়ে CPR চালিয়ে যান। অঊউ (AED (Automated External Defibrillator) থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। সঠিক সময়ে ঈচজ প্রয়োগ আপনার হাতে ফিরিয়ে দিতে পারে একটি প্রাণ। শিখুন, শেখান, প্রয়োগ করুন।

লেখক : কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা

হটলাইন : ১০৬৭২

 

এ জাতীয় আরও খবর

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাল্যবিয়ে ঠেকাতে এগিয়ে শিশুরাই