,

শীতেও কমেনি ডেঙ্গুর দাপট

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীতকালেও ডেঙ্গু নিয়ে ভয় কাটেনি। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে ৬৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, বছরের শুরু থেকেই এডিসের উৎস ধ্বংসে জোর দেওয়া প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি স্থানীয় সরকার কিংবা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের।

বছর কয়েক আগেও ডেঙ্গু মৌসুমি জ¦র ভাবা হতো। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে ধারণা পাল্টাতে থাকে। গত বছরের ১২ মাসের ১১ মাসেই এতে প্রাণহানি ঘটে; ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে দেশের সব জেলায়। গত বছর মোট রোগীর প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর প্রায় ৪৩ শতাংশ ছিল ঢাকার বাইরে। মশা নিধনে ঢাকায় তৎপরতা থাকলেও ছিটেফোঁটা নেই স্থানীয় পর্যায়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী ছিলেন ৩৭০ জন। মারা গিয়েছিলেন দুজন। এ বছর গতকাল শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে ৬৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন পাঁচজন। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭০৫ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন সারা বছরের রোগ। এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বছরের শুরু থেকেই কার্যক্রম দরকার। এ জন্য স্থানীয় সরকারের আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যদিও জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে কার্যক্রম হাতে নিতে দেরি হয়েছে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করা জাতীয় কর্মকৌশলের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে যাবে, সেখান থেকে যাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। আশা করি ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়ে যাবে। কর্মকৌশল চূড়ান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’

তবে জানুয়ারির প্রায় অর্ধেক চলে গেলেও এখনো মাঠেই নামতে পারেনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। করণীয় ঠিক করতে আগামী সপ্তাহে সভা ডেকেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের সভায় উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।’ কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল শীতে এডিসের প্রকোপ একেবারে কমে আসবে। কিন্তু প্রাদুর্ভাব এখনো বেশি দেখা যাচ্ছে। কার্যক্রম আগে শুরু করতে পারলে ভালো হতো, তবে খুব বেশি একটা দেরি হয়েছে বলে মনে হয় না।’

এডিস ধ্বংসের কীটনাশক বিটিআই নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছে উল্লেখ করে ডিএনসিসির এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘বিটিআই নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় কোনো মাধ্যম ব্যবহার না করে নিজেরাই সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএনসিসি। সিঙ্গাপুর ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হচ্ছে। শিগগিরই আশা করা যায় চলে আসবে।’

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার মনে করেন, ‘মৌসুমের চিন্তা করে এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দরকার বছরব্যাপী কার্যক্রম। কিন্তু সেটি দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন এখন কিউলেক্স মশা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, সেটি ঠিক আছে। কিন্তু শীতে ডেঙ্গুর বংশ বৃদ্ধি না হলেও এডিসের ট্রান্সমিশন (সংক্রমণ) থেমে নেই। পানি পেলে তারা বংশ বৃদ্ধি করবে। যা মার্চ-এপ্রিলে দ্রুত ভয়ংকর হতে পারে।’

কবিরুল বাশার বলেন, ‘অবস্থা যা তাতে ঢাকার বাইরে এবার ভোগাবে সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় কিছুটা কার্যক্রম প্রতিবছর দেখা গেলেও কিছুই নেই ঢাকার বাইরে। স্থানীয় সরকার সেখানে অনেকটা ঘুমে রয়েছে। অথচ ঢাকার বাইরে রোগী বাড়লেই বিপদ। কারণ চিকিৎসাব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে। এ জন্য দরকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মশা নিধনে পর্যাপ্ত উপকরণ ও অন্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান।’

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট