,

মরণোত্তর দেহদান প্রক্রিয়া আজ শুরু

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় বেশ জটিলতা ছিল। সেই জটিল পথটি সহজ করে দিয়ে গেছেন সারাহ ইসলাম। মাত্র ২০ বছর বয়সী এ তরুণী মৃত্যুর আগে তার দেহদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম সারাহর মৃত্যুর পর তার দান করা দেহ থেকে কিডনি ও কর্নিয়া নিয়ে অন্য চারজনের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। সারাহর দেখানো পথে এবার সরকারি উদ্যোগে চালু হতে যাচ্ছে মরণোত্তর দেহদান প্রক্রিয়া। আজ সোমবার থেকে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। দেহদানে অঙ্গীকারকারীদের একটি ডোনার কার্ড দেওয়া হবে। এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট কমিটির তত্ত্বাবধায়নে একটি সেল গঠন করেছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এ উপলক্ষে আজ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি মরণোত্তর অঙ্গদান করে আলোচনায় আসা তরুণী সারাহ ইসলামের মা শবনম সুলতানা, সারাহর কিডনি নেওয়া শামীমা আক্তার, বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, ইউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল, কিডনি প্রতিস্থাপন টিমের সব সদস্য মরণোত্তর দেহদানে অঙ্গীকার করবেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, ১৯৮২ সালে জীবিতদের কাছ থেকে কিডনিসহ আরও ৮ ধরনের অঙ্গ সংগ্রহে বৈধতা দেওয়া হয়। কিন্তু ব্রেন ডেথ (মস্তিষ্ক মৃত) রোগীর কিডনি দানে সীমাবদ্ধতা ছিল। ২০১৮ সালে সেই জটিলতা কাটিয়ে মরণোত্তর সংযোজন আইনে কিডনি, লিভার, চোখের কর্নিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গদানে নিকটাত্মীয়ের সম্মতিতে বৈধতা দেওয়া হয়। তারপরও সামাজিক ও ধর্মীয় বাধায় তা আটকে থাকে। গত ১৮ জানুয়ারি সেই বাধা কাটে ২০ বছরের তরুণী সারাহ ইসলামের হাত ধরে।

তবে মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সক্ষমতা বাড়লেও সংরক্ষণে এখনো যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। জাতীয়ভাবে এখন সংরক্ষণাগার ও ডাটাবেজ গড়ে ওঠেনি। সরকারি ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থাকলেও সংরক্ষণের সুযোগ আছে মাত্র ৮টিতে।

বিএসএমএমইউয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ইসতিয়াক আহমেদ শামীম আমাদের সময়কে বলেন, ‘একজন মানুষের হার্ট, লিভার, কিডনি ও কর্নিয়াসহ ৮টি অঙ্গ নেওয়া যায়। দেশে মরণোত্তর প্রতিস্থাপনে আগের তুলনায় চিকিৎসকদের সক্ষমতা বেড়েছে। দেহদানে আগের তুলনায় মানুষের সচেতনতা বাড়লেও এখনো ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি মেডিক্যালে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও অনেকগুলোতে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নেই। তবে শুধু ঘাটতির কথা না ভেবে কীভাবে এগোনো যায় সেটিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যেহেতু মাত্র শুরু হলো ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়বে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি এ সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা। এ জন্য ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মরণোত্তর অঙ্গদান হয়েছে কর্নিয়া। তবে কী পরিমাণ হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য সরকারের হাতে নেই। মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে কাজ করা সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি বলছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৩৮ বছরে ৩৯ হাজার ৫৬৯টি কর্নিয়া দানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮ হাজার কর্নিয়া সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করা গেছে।

সমিতির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জয়নাল বলেন, ‘যারা অঙ্গীকার করেন তাদের মৃত্যুর পর সবার মরদেহ পাওয়া যায় না। কারণ তাদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চায় না। মৃত্যুর খবর না জানালে তো আমরা জানব না। আমরা মরদেহ সংগ্রহ করি না। আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়।’

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট