,

দুর্বৃত্তের ছোড়া অ্যাসিড থামাতে পারেনি সাতক্ষীরার সোনালীকে

news-image

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : দুর্বৃত্তের ছোড়া অ্যাসিড থামাতে পারেনি সাতক্ষীরার সোনালিকে, সফলতার সঙ্গে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

অথচ এই কিশোরী সোনালীর বেঁচে থাকাটাই ছিল জীবনের সবথেকে কঠিন কাজ। বহু কষ্টে পড়াশোনা করে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে এসএসসি’র পরীক্ষায় অংশ নেন।

অ্যাসিড দগ্ধ সেই সোনালী এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৪.৯৬ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

পাটকেলঘাটার কুমিরা পাইলট বহুমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন সোনালি খাতুন (১৯)।

সাতক্ষীরার এনজিও কর্মী ফারুক রহমান জানান, মাত্র ১৮ দিন বয়সে মা-বাবার সাথে অ্যাসিড আক্রান্ত হয়েছিল ছোট্ট শিশু সোনালী। ১৮ দিনের শিশু সোনালী মা-বাবার কোলের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিল রাতে। দুর্বৃত্তরা রাতে অন্ধকারে অ্যাসিড ছোড়ে সোনালীর মা ও বাবার শরীরে বাবা-মার সাথে এতটুকু শিশু সোনালীর মুখ, শরীর ঝলসে যায় সেদিন রাতে।

জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সোনালী ও তার বাবা-মা অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়। ২০০২ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে ঘটে সোনালীর পুরো পরিবারের উপর অ্যাসিড আক্রমণ।

সোনালী সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ন’কাটি গ্রামের নুর ইসলাম খোদেজা দম্পতির সন্তান।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা সোনালী ও তার বাবা-মাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। এতে তার চোখ-মুখ, মাথা ও ঘাড় ঝলসে যায়, পুড়ে শরীরের একটি বড় অংশ। তার শরীরের ক্ষত স্থান এখনো চুলকায় ও চোখ দিয়ে পানি ঝরে।

সোনালি খাতুনকে স্থানীয় এনজিও স্বদেশ’র সহযোগিতায় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’র প্রিভেনশন অব অ্যাসিড ভায়োলেন্স প্রকল্পের আওতায় তার পরিবারকে আত্মবিশ্বাস গঠনমূলক কর্মশালার অন্তর্ভুক্ত করে সহযোগিতা করা হয়।

সোনালীর বাবা নুর ইসলাম জানান, সোনালীর এই পর্যন্ত টিকে থাকা ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া খুব সহজ ছিল না। স্কুলে যাওয়ার বয়স হওয়ার পর সোনালীকে স্কুলে ভর্তি করার পর স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেনি।

‘প্রথম দিকে তাকে স্কুলে যেতে নানারকম সামাজিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় স্বদেশ স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সমাজের সাধারণ মানুষকে কাউন্সেলিং, সামাজিক সম্পৃক্ততা করে সোনালীর স্কুলে পড়ালেখা অব্যাহত রাখার প্রয়াস চালানোর ফলে সোনালীর শিক্ষা জীবনের মাধ্যমিক স্তর সফলতার সাথে সমাপ্তের পথ সুগম হয়েছে। সোনালী স্বপ্ন দেখছে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের। তার দরকার আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা।

কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষক গৌতম কুমার দাশ জানান, সোনালীর এই সাফল্যে তিনি এবং তার শিক্ষকমণ্ডলী খুশি সোনালী সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে আজ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার পর্যায় এসেছে। এ জন্য ওর অদম্য মানসিক সাহস ও সকলের সহযোগিতা ওকে এত দূর আসতে সাহায্য করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে সোনালীকে অভিনন্দন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নুরুন নাহার বেগম বলেন, সোনালীর এই সাফল্যে অভিভূত। তিনি সোনালীর উচ্চশিক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

মানবাধিকার কর্মী ও স্বদেশ’র নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, সোনালীর এই সাফল্যে তিনি ও তার সংগঠন সোনালীর উচ্চ শিক্ষালাভে সবসময় পাশে থাকবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না