,

এবার পুলিশকেই ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল যুবক!

news-image

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লালখানবাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাবলা দাশ। বার বার লসের কারণে ঋণ নিতে নিতে হতাশ এ যুবক! শেষমেষ আড়তদাররা সিদ্ধান্ত নিলেন নগদ টাকা ছাড়া তাকে মাছ দেয়া যাবে না। তখনই নাটক সাজান বাবলা দাশ। তার সাজানো গল্পেই ফেঁসে যেতে বসে কোতোয়ালি থানা পুলিশ!

ঋণভারে জর্জরিত যুবক বাবলা দাশ ‘পুলিশের টাকা ছিনতাই ও ইয়াবা’ ফাঁসানোর গল্প সাজায়। পরে তদন্ত শুরু হলে দেখা যায়, বাবলা দাশ অসত্য বলেছেন, ভুয়া গল্প সাজিয়ে পুলিশকে ফাঁসিয়ে নিজেই আড়তদারের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পুলিশের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিলেন।কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন এ গল্প গত ১১ অক্টোবর ফেসবুকে শেয়ার করেন-

পুলিশ যেভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসায়!

মাছ বেচে ফিসারিঘাট যাচ্ছিল বাবলা। পথেই তার গতিরোধ করে পুলিশ। তল্লাশি চালায় এবং একপর্যায়ে গাড়িতে তোলে। গাড়িতে তুলে কিছুক্ষণ ঘোরানোর পর নির্জন এক জায়গায় তাকে নামায়। এরপর তার পকেটে ইয়াবা গুঁজে দিয়ে বলে ইয়াবা ব্যবসায়ী! ইয়াবাসহ তার কিছু ছবিও তুলে রাখে সেই পুলিশ সদস্যরা! এরপর বাবলার কাছে থাকা এক লাখ ১৩ হাজার টাকা তারা নিয়ে নেন! এবং তাকে হুমকি দেন, যদি এই টাকার বিষয়ে কাউকে বলে, তাহলে তাকে এসব ছবি দিয়ে মামলা দিয়ে দেবে! টাকা ‘হারিয়ে’ বাসায় চলে আসে বাবলা।

পুলিশ যেভাবে ফেঁসে যায়!

বাবলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানায় তার আড়তদার। কারণ, ‘আত্মসাতকৃত’ সেই টাকাগুলো আড়তদারের পাওনা পরিশোধের জন্যই যাচ্ছিল। অভিযোগ গুরুতর। পাশাপাশি পুলিশবিরোধী সেন্টিমেন্টের ‘পিক আওয়ার’ চলছে। তাই সাথে সাথেই তদন্ত শুরু করি।

যদিও শতভাগ বিশ্বাস ছিল, ‘টিম কোতোয়ালি’ এটা কখনোই করবে না। কিন্তু বাবলার আত্মবিশ্বাস ছিল আমার বিশ্বাসের চেয়েও বেশি। তাই কিছুটা কনফিউজড ছিলাম। সিনিয়র স্যারদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদে বাবলা তার কথায় অনড় থাকে। তাকে সিসিটিভি ফুটেজের কথা বললে সে বলে, ‘স্যার, সেটা দেখলেই প্রমাণ পাবেন আমার অভিযোগের’!

উপায়ন্ত না দেখে তাৎক্ষণিকভাবেই তার সামনেই আনা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। প্রতি মোড়ের প্রতিটাক্ষণ যাচাই করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী তাকে যেখান থেকে পুলিশ গাড়িতে ‘তুলে’ সেখানে তাকে দেখা গেল না! যেখানে যেখানে তাকে ‘ঘোরানোর’ অভিযোগ করেছিল সেখানে আমাদের গাড়ি যায়নি! আবার যেখানে তাকে ‘নামিয়ে’ দেওয়ার কথা বলল, সেখানেও নেই তার অস্তিত্ব!

এসব দেখার পরই শুরু হয় তার অসংলগ্ন কথাবার্তা। এরপর আবারো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে সে স্বীকার করে তার সব অভিযোগই মিথ্যা! মূলত আইপিএল-এ বাজি ধরে সে সব টাকা খুঁইয়েছে। টাকা না দিলে মাছ পাবে না- তাই ‘পুলিশ টাকা নিয়ে নিয়েছে’ বলে উদ্ধার পেতে চেয়েছিল বাবলা। তার দাবি, এই অভিযোগ সবাই বিশ্বাস করবে। তাই এমন অভিযোগই সে করেছে।

এই সত্য উদ্‌ঘাটনের পর যখন ঘুমাতে যাব, তখন ভাবছি, যদি এই সত্য বের না হতো তাহলে কি হতো? ‘ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীর টাকা আত্মসাৎ’ সংবাদের শিরোনাম হতাম আমরা। আমার অফিসার ক্লোজড হতেন। আমিও…..।

আল্লাহ, সহায় ছিলেন। তাই বেঁচে গেলাম। চোরের দশদিনের পর আজ আসলে আমাদের গেরস্থেরই দিন ছিল। ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেল বাবলা। ডেইলি বাংলাদেশ

এ জাতীয় আরও খবর

পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুলের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

সুস্থ থাকুক আপনার হার্ট

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে ইমরান খান

পাঁচ পেসারই ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত, সঙ্গে দুই স্পিনার

আটা-তেল-চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

বিষাক্ত গ্যাসে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে প্রাণ গেল আরও এক শ্রমিকের

‘আমরা খুব ভালো বন্ধু’

অল্প সময়ের ব্যবধানে মত বদলাল অস্ট্রেলিয়া, একাদশ ঘোষণায় চমক

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন বাবুল মিয়া

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, আজ বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক

মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা