,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানীর জন্য প্রস্তুত সুলতান ও টাইগার

news-image
তৌহিদুর রহমান নিটল,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া : কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা । ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট। এবার কোরবানীর ঈদ বাজারে আসছে  সুলতান ও টাইগার । দীর্ঘ দুই বছর আট মাস পর “সুলতান” বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন তার দেহরক্ষী মোজাম্মেল হক রতন। অপরদিকে ছয় ফুট উচ্চতার ষাড়টিকে আদর করে নাম রাখা হয়েছে টাইগার । বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর ২৫ মণ ওজনের টাইগারকে প্রতিদিন শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন এসে ভিড় করছেন টাইগারকে এক নজর দেখার জন্য ।
কিন্তু টাইগার ও সুলতানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাদের মালিক। তবে এই সুলতান কোন  রাজ্যের বাদশা সুলতান না। দেশীয় ক্রস জাতরে এক ষাঁড়রে নাম। ষাঁড়টি দেখতে এক দম চিকচিকে কালো। দেখতে সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারী সুলতান। মালিক মোজাম্মেল হক রতন শখ করে এর নামে দিয়েছেন ‘ সুলতান” । যেমন নাম তেমনই সুলতানি আরাম আয়েশেই দিন কাটছে তার। মোঃ মোজাম্মেল হক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি শখ
করে তিনি দেশীয় ক্রস জাতের তিনটি ষাঁড় ও শাহী আওয়াল জাতের আরো তিনটি ষাঁড় নিয়ে ছোট একটি গরুর খামার করেন।
এর মধ্যে সুলতানের এর বয়স দুই বছর আট মাস। বাকীগুলোর কোনটির ১২ মাস
ও কোনটি ১৭মাস। রতন জানায়, গত দুই বছর আট মাস আগে দেশীয় ক্রস জাতের একটি গাভীর পেট থেকে জন্ম নেওয়ার পর থেকেই তাকে অত্যান্ত যন্তসহকারে পালন করে আসছি। কোন প্রকার ক্ষতিকর খাবার ও ইনজেকশন ছাড়াই দেশীয় খাবারের মাধ্যেমে গরুগুলো পালন করে আসছি। তিনি জানান, গুরু থাকার ঘর গুলো নিয়িমিত প্রতিদিন তিনবার পরিস্কার করা হয়। ৬টি গরুর জন্য তিনটি ঘর করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে দুটি করে গরু রাখা হয়। খৈল,ভূসি খর রাব ও ঘাস খাওয়ানো হয় গরুগুলোকে।
খামারের মালিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের নোঁয়াগাও গ্রামের মোজাম্মেল হক রতন বলেন, গরুটি ১১শত কেজি হবে। এই হিসাবে ওজন সাড়ে ২৭মণ হবে। তিনি ৮লক্ষ টাকা এটির দাম চান। তবে এলাকায় বেশ কয়েকটি দাম উঠলেও সঠিক মূল্য পেলে তিনি বিক্রি করবেন। করোনার কারণে সঠিক মূল্য পাবে কিনা এ নিয়ে এখন দূচিন্তায়। কোরবানির পশুর হাটে তুলে এর সঠিক মূল্য পাবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে টাইগারের মালিকের। আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের কুসুমবাড়ি এলাকায় ধাতুরপহেলা গ্রামের মিন্টুর খামারে ৪৬টি গরু রয়েছে।
এর মধ্যে ৩৭টি গাভী ও ৯টি ষাঁড়। মিন্টু মিয়া প্রবাসে থাকায় তার ভাই আব্দুল কাইয়‚মই খামারের দেখাশোনা করেন। তিন বছর চার মাস আগে খামারে একটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী টাইগারের জন্ম দেয়। জন্মের সময় বাছুর টাইগারের ওজন ছিল ৩৫ কেজি। এরপর কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে শুরু হয় টাইগারের পরিচর্যা। প্রতিদিন তিনবেলা শ্যাম্পু দিয়ে গোলস করানোর পর পরম যত্নে টাইগারকে খাবার খাওয়ান খামারের কর্মচারীরা। খড়, গমের ভূষি, ভুট্টা, আটা, ছোলা, নেপিয়ার ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের দানাদার খাবার খাওয়ানো হয় টাইগারকে। এখন পর্যন্ত টাইগারের পরিচর্যায় খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। জন্মের পর থেকেই টাইগারের পরিচর্যা করছেন খামারের কর্মচারী এরশাদ মিয়া। তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টায় টাইগারকে গোসল করানো হয়।
গোসলের ১০ মিনিট পর খাবার দেয়া হয়। এরপর আবার দুপুর ২টার দিকে গোসল করিয়ে খাবার দেয়া হয়। সর্বশেষ রাত ৮টার দিকে আবারও গোসল করোনার পর খাবার দেয়া হয়। প্রতিদিন টাইগারকে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৫০ কেজি খাবার খাওয়ানো হয়। জেলার বাইরে বড় পশুর হাটে টাইগারের দাম অন্তত ১০ লাখ টাকা হতো বলে জানিয়েছেন খামারি কাইয়‚ম। খামারি কাইয়‚ম জানান, সম্প‚র্ণ প্রাকৃতিকভাবে টাইগার বেড়ে উঠেছে। আমরা মোটাতাজাকরণের জন্য কোনো ঔষধ খাওয়াইনি।
এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. কামাল বাশার বলেন, স্বাভাবিক খাবারেই টাইটগার বেড়ে উঠেছে। আমরা নিয়মিত উক্ত খামারিকে পরামর্শ দিয়েছি। পাশাপাশি পরিচর্যাকারীকে প্রশিক্ষণও দিয়েছি।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা