,

কুয়েতে পাপুলের বার্ষিক আয় ২০ লাখ দিনার!

news-image

নিউজ ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে তার জনশক্তি ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ২০ লাখ দিনার আয় করতেন। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গতকাল শুক্রবার কুয়েতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র আল-রাইয়ের এক প্রতিবেদনে দেশটির তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আল-রাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজী পাপুলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন এবং তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পেয়েছে দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তারা এ বিষয়ে তিনজনের বক্তব্য শুনেছেন। এই তিনজনের মধ্যে দুজন হলেন- এমপি পাপুলের জনশক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং অপরজন কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার বিনিময়ে ঘুষ, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন উপহার দেওয়ার পরও বাংলাদেশি এই সাংসদের বার্ষিক মোট আয় আনুমানিক প্রায় ২০ লাখ দিনার।’

এমপি পাপুল মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ ঘটনায় কুয়েতে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন দেশটির কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন কুয়েতে শ্রম বিষয়ক সরকারি সংস্থার জনশক্তি কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার বোনের একটি জনশক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে শ্রমিক আনার জন্য এমপি পাপুলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একটি চুক্তি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তারা কুয়েতের এই জনশক্তি প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কথা শুনেছেন। তবে তিনি কোনো অবৈধ কাজে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।

এমপি পাপুলকে গ্রেপ্তারের পর গত ৬ জুন কুয়েতের ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ তাকে নির্দোষ বলে জানালেও তদন্তের ধাপে ধাপে তিনি নিজের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি কুয়েতের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তদন্তকারীদের সাংসদ পাপুল জানিয়েছেন, কুয়েত সরকারের ভেতরেই একটি মহল এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যারা অর্থের বিনিময়ে আরব দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশের পথ তৈরি করে দিয়েছেন।

কুয়েতের জনশক্তি প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতির মালিক এমপি পাপুল এবং কুয়েতের এক নাগরিক। দেশটিতে শ্রমিক পাঠানোর বিনিময়ে জন প্রতি প্রায় তিন হাজার দিনার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশি এই সাংসদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রতি বছর সেদেশে থাকার অনুমতিপত্র পুনরায় অনুমোদন করাতে প্রতিষ্ঠানটিকে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করতে হতো শ্রমিকদের।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন এমপি শহীদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি কুয়েতে মানব পাচারের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন এবং বিভিন্ন দেশে তা পাচার করেছেন।

এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের সংবাদমাধ্যম জানায়, মধ্য প্রাচ্যের এই দেশটিতে তিন বাংলাদেশি মিলে মানব পাচারের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি আরব টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই তিনজনের মধ্যে একজন ‘বাংলাদেশের সংসদ সদস্য’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানে এই তিন জন ‘গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল’ করে আছেন। যেসব প্রতিষ্ঠান ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে কুয়েতে পাঠিয়েছে। ধারণা করা হয়, এই শ্রমিকদের কাছ থেকে বিনিময় হিসেবে প্রায় এক হাজার ৩৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকারও বেশি নেওয়া হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা