,

আম্পানে লণ্ডভণ্ড সুন্দরবন ও ২৪ পরগনা

news-image

নিউজ ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় আম্পানে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল ভারতীয় অংশের সুন্দরবন-সহ দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। একে তো বিধ্বংসী ঝড়, তার ওপরে ছিল নদীতে ভরা জোয়ার। প্রবল হাওয়া, অতিবৃষ্টির সঙ্গে সৃষ্টি হয় জলোচ্ছ্বাসের। রাত পর্যন্ত ১০-১২ জনের মৃত্যুসংবাদ মিলেছে বলে জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দবাজার পত্রিকাকে জানান, সুন্দরবন-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিমি বেগে ঝড় বয়ে যায়। আইলার সময়ে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। আর কলকাতায় আইলার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার।

এ দিন আম্পানের তাণ্ডবের সময়ে দমদমে ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার এবং কলকাতার আলিপুরে ১১৪ কিলোমিটার। রাত পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ২৪৪.২ মিলিমিটার। হাওয়া অফিসের খবর, মে মাসে কলকাতায় এক দিনে এত বৃষ্টি আগে দেখা যায়নি।

যে বিপর্যয় দুই ২৪ পরগনায় হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস-গবেষকদের অনেকেই বলছেন, ১৮৭৬ সালে বাখরগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ের বিপর্যয়ের পেছনেও এমন ভরা জোয়ারের ভূমিকা ছিল। ইতিহাসবিদ বেঞ্জামিন কিংসবেরির ‘অ্যান ইম্পিরিয়াল ডিজাস্টার: দ্য বেঙ্গল সাইক্লোন অব ১৮৭৬’ বইয়েও জোয়ারের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির তিন দুর্যোগের উল্লেখ রয়েছে।

এ দিকে আম্পানের তাণ্ডবে কচুবেড়িয়া জেটি ভেঙে মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে সাগরদ্বীপ। নামখানা, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, ভাঙড়, বসিরহাট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর ঘরবাড়ি, মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছে।

সুন্দরবনে বন দফতরের বিভিন্ন ক্যাম্পে পানি ঢুকেছে। তবে প্রচুর মানুষকে আগেভাগে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ায় মৃত্যু অনেকটাই এড়ানো গেছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ডিজি এস এন প্রধান জানান, পশ্চিমবঙ্গে ৫ লাখ ও ওড়িশায় প্রায় দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় বাহিনীর ৪১টি দল কাজ করছে।

উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বসিরহাটে। প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ত্রাণশিবিরে রয়েছেন। জেলায় প্রায় ১০ হাজার বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। দমদম, বিরাটি, নিউ ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসতের অনেক এলাকায় খুঁটি উপড়ে বা ট্রান্সফর্মার ফেটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। হাওড়ার অনেক জায়গায় বাড়ি ভেঙেছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ঝড়ের দাপটে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হিমশিম খেয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ। বালি-সহ বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। জলোচ্ছ্বাস হাওড়া ফেরিঘাটের সবচেয়ে উঁচু জেটিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। হাওড়ার ৫০০ বাসিন্দাকে আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে।

প্রশাসন জানায়, কাঁথি মহকুমার কয়েক জায়গায় সমুদ্র বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। তাজপুর, জলধা, চাঁদপুর, লছিমপুরের মতো বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দিঘায় একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতি হয়েছে প্রচুর কাঁচাবাড়ির। নদিয়ায় প্রশাসন ৪৯৫টি ত্রাণ শিবির খুলেছে। রয়েছে ফ্লাড শেল্টারও।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা