,

করোনার সংক্রমণের সংখ্যা চূড়ায় পৌঁছাবে কবে?

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ই মার্চ। এর পর থেকে আজ ৩৫তম দিন চলছে।

আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ১০০ জনে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৮ দিন। কিন্তু গত কয়েক দিনে এই চিত্রে পরিবর্তন আসে।

রোববার ১৩৯ জনের দেহে আর সোমবার ১৮২ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য দিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট-আইইডিসিআর।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা পুরো চিত্র নয়।

ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ডা. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা যত বাড়ানো হবে আক্রান্তের সংখ্যাও তত বেশি পরিবর্তন হবে।

‘আমাদের পরীক্ষার সংখ্যা খুবই সীমিত। আমরা যদি একদিনে এক হাজার নমুনা পরীক্ষা না করে ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করতে পারতাম তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা পুরো পাল্টে যেতো। বিশাল আকার হতো,’ তিনি বলেন।

তিনি মনে করেন, যে পরীক্ষা হচ্ছে তাতে বোঝা যাবে না যে দেশে কত রোগী আছে। বরং এটা দিয়ে বোঝা যাবে যে, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলমান রয়েছে।

দেশে কত রোগী আছে তার হিসাব বের করতে হলে ১০-২০ হাজার পরীক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।

চীনের পর যেসব দেশে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সেখানে প্রথম সংক্রমণের পর ৩৮ থেকে ৭৬ দিনের মাথায় একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হতে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৭৬ দিনের মাথায় একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত পাওয়া যায় ৩২,১০৫ জন।

এছাড়া যুক্তরাজ্য ৬৭তম দিনে, ফ্রান্স ৬৬, জার্মানি ও স্পেনে ৬১, ইতালি ৫৩, ইরানে ৪২, এবং নেদারল্যান্ডসে ৩৮ তম দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ধরা পরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আক্রান্তের সব ধরণের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে ধারণা করা যেতে পারে যে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ কিংবা মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদও বলেছেন এই কথা।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের যে ট্রেন্ড দেখছি তা এক্সপোনেনশিয়াল পর্যায়ে রয়েছে বা এটা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।’

পিক বা চূড়ায় পৌঁছানো বলতে বোঝায় যে, ক্রমাগত সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার যে পর্যায় সেটি চলতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে এই হার সর্বোচ্চ হবে। আর তার পরই সংক্রমণের হার নেমে আসবে।

ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভাবছি, এটা হয়তো মে মাসের প্রথম দিকে বা মাঝামাঝি নাগাদ আমরা পিকটা আশা করতে পারি।’

তবে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হওয়া বা সংক্রমণ কবে নাগাদ চূড়ায় উঠতে পারে সে বিষয়ে কোন কিছু বলতে চাইছে না আইইডিসিআর।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট করে কোন কিছু বলা সম্ভব নয়।

‘আমাদের এখন রাইজিং ট্রেন্ড অর্থাৎ সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আমাদের ঝুঁকি দিন দিন আরো বাড়ছে। পিক এ কবে পৌঁছাবে, সেটা এখন আমি বলবো না,’ তিনি বলেন।

তার মতে, এখন কোন ধরণের ধারণার কথা বললেও আসলে শেষমেষ তা কাজে নাও আসতে পারে।

‘যদিও আমরা একটা মডেলিং করে প্রেডিকশন করেছি, কিন্তু সেটা নিয়ে আমরা এখনই কোন মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এখনও সে সময় আসেনি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্য দেশের মতোই করোনাভাইরাসের মতো মহামারি সামাল দিতে যেহেতু হাসপাতাল ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, তাই সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে খেয়াল রাখতে হবে যাতে, মারাত্মকভাবে সংক্রমণের শিকার মানুষের সংখ্যা সীমিত রাখা যায়।

এ বিষয়ে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ৮০ ভাগ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও ২০ ভাগ মানুষের হাসপাতালে সেবা নেয়ার দরকার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ এক সময় চূড়ান্তে পৌঁছালেও কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকরের মতো পদক্ষেপ নিয়ে এই হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

এ জাতীয় আরও খবর

বিতর্কের জেরে সরানো হলো মেহজাবীন-পরীমণির ভুয়া ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক: জি এম কাদের

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল উন্নত প্রযুক্তির ১৮ রেলকোচ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

দুই মাস পর বড়পুকুরিয়া খনিতে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু

‘নুর হাসিনার পুত্র হলে, আসিফ-নাহিদরা নাতি’: আবু হানিফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য হ্রাসের আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, পরীক্ষার্থীর এক মাসের কারাদণ্ড

শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি