,

খাটিয়াও না মেলায় কাঁধে করেই লাশ দাফন করলেন বাবা-ভাই

news-image

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো সালাম মিয়ার লাশ খাটিয়া ছাড়াই বাবা ও দুই ভাই কাঁঁধে করে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া যুবকের মরদেহ দাফনে ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি মসজিদের লাশ বহনের খাটিয়া। দাফনের আগে মৃতের গোসল করাতে দেয়া হয়নি।

অনন্যোপায় হয়ে মৃতের বাবা ও তার দুই ভাই তার লাশ কাঁধে বহন করে নিজেরাই কবরস্থ করেছেন।

বৃহস্পতিবার এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের উপজেলার বক্তারপুর গ্রামে।

ওই দিন রাতে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো লাশ খাটিয়া ছাড়া তিন ব্যক্তি কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পর থেকেই এ ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে করোনার উপসর্গ নিয়ে বক্তারপুর গ্রামে মো. সালাম (২২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের ১০ বাড়ি লকডাউন করে প্রশাসন।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সালামের করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করার পর মরদেহ গোসল না করিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় মৃত সালামের বাবা-মা ছেলের লাশ গোসল করানোর উদ্যোগ নিলে স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের লোকজন তাতে বাধা দেন। তারা মৃতের শরীরে এক ধরনের পাউডার ও কাফনের কাপড় পরিয়ে দিয়ে লাশ প্যাকেটিং করে দেন। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, লাশ কবরে নেয়ার জন্য গ্রামের মসজিদ থেকে খাটিয়া আনতে গেলে ইউপি মেম্বার শরিফ উল্লাহসহ মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাদের খাটিয়া আনতে দেননি। এমনকি গ্রাম থেকে অনেক কষ্টে একটি খাটিয়া সংগ্রহ করলেও সে খাটিয়া ব্যবহার করতে দেননি ইউপি মেম্বারসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পরে উপায়ন্তর না দেখে মৃতের বাবা জবুল মিয়া এবং তার দুই ভাই খালিক মিয়া ও আলীনূর মিয়া নিজেদের কাঁধে লাশ তুলে খাটিয়া ছাড়াই মরদেহ গ্রাম্য কবরস্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে তার দাফন সম্পন্ন করেন।

মৃত সালামের মা সালেমা বেগম বলেন, আমার ছেলে মারা গেল কিন্তু গ্রামের কেউ এগিয়ে আসেনি। আমি পানি এনে দিলেও তারা আমার ছেলের গোসল করাননি। আমার ছেলের মরদেহে কেউ হাত দেননি। সব কিছু তার বাবা ও ভাইয়েরা মিলেই করেছে। স্থানীয় মেম্বার আমার ছেলেকে খাটিয়ায় তুলতে দেননি। মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি। রিপোর্টে যদি আমার ছেলের করোনা না হয়, তা হলে আমার দাবি থাকবে– ছেলের মরদেহ আবার উত্তোলন করে যেন শরিয়ত অনুযায়ী দাফন-কাফন করানো হয়।

এদিকে মৃতের পরিবাবের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে মসজিদ কমিটি, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফ উল্লাহ বলেন, যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সবই সরকারি ও পঞ্চায়েতের নির্দেশ অনুযায়ী হয়েছে। পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়ে আসা খাটিয়া ফেরত নেয়া হয়। আমি তাদের সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন সুমন বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ অন্য কেউ হাত দেয়নি। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনের তদারকিতে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাশেম বলেন, মরদেহ দাফনের সময় দোয়ারা থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান স্বাস্থ্য বিধি ও শরিয়ত বিধি মেনেই তার লাশ দাফন করা হয়েছে। এখানে তার পরিবারের কেউ লাশে হাত দেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, আমিও বিষয়টি জেনেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। রিপোর্ট হাতে আসার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ওই যুবকের করোনা নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সিলেট করোনাভাইরাস ল্যাব কর্তৃপক্ষ। সেখানে তার করোনা নেগেটিভ এসেছে বলে জানা গেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিতর্কের জেরে সরানো হলো মেহজাবীন-পরীমণির ভুয়া ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক: জি এম কাদের

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল উন্নত প্রযুক্তির ১৮ রেলকোচ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

দুই মাস পর বড়পুকুরিয়া খনিতে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু

‘নুর হাসিনার পুত্র হলে, আসিফ-নাহিদরা নাতি’: আবু হানিফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য হ্রাসের আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, পরীক্ষার্থীর এক মাসের কারাদণ্ড

শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি