,

গৃহপরিচারিকার সন্ধান ও অর্থিক লেনদেনের জের ধরে রংপুরে এসে লাশ হলেন রাজধানীর ব্যবসায়ী

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুরে গৃহপরিচারিকার সন্ধান ও অর্থিক লেনদেনের জের ধরে রংপুরে এসে লাশ হলেন রাজধানীর ব্যবসায়ী ও আরবান হেলথ কেয়ারের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার তোশারফ হোসেন পপি। অপহরণের ৯ দিন পর আজ রবিবার দুপুরে পুলিশ রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুর নন্দনপুর গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ১১ জানুয়ারি রংপুরের কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্টান্ড থেকে তার পূর্ব পরিচিত পুলিশ কনস্টেবল রবিউল ইসলাম তাকে অপহরণ করে গুম করেছিল। এঘটনায় ওই পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্য ভিত্তিতে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আরপিএমপি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ কাওছার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত তোশারফ হোসেন পপি রাজধানীর হাজারিবাগের তোতা মিয়ার ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দুর্গাপুরে। ফাইয়াজ হোসেন আলভী(৯), আরাফ হোসেন (৪) ও আরশ হোসেন নামের ৭মাস বয়সী তিন ছেলে রয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানাগেছে, ১১ জানুযারি রাজধানীর এনায়েতগঞ্জ লেন হাজীরবাগের ব্যবসায়ী ও আরবান হেলথ কেয়ারের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ তোশারফ হোসেন পপি তার বাসায় গৃহপরিচারিকার (কাজের মেয়ে) সন্ধান ও অর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আলোচনার জন্য রংপুরে পুলিশ কনস্টেবল রবিউল হোসেনের কাছে তিনি আসেন। ওই দিন রংপুর নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্টান্ডে এলে সেখান থেকে তাকে অপহরণ ও গুম করা হয়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রংপুর কোতয়ালী থানায় ব্যবসায়ীর ছোট বোন সাজিয়া আফরিন ডলি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার সূত্র ধরে এবং মোবাইল ট্রাকিং করে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রবিউলকে শুক্রবার রাতে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার দুলাভাই সাইফুল ও তাদের বাসার কাজের ছেলে বিপুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে রোববার সকালে বদরগঞ্জের শ্যামপুর নন্দনপুর গ্রামে রবিউলের বড় বোন জামাই মহসীন আলীর বাড়ির পাশে একটি আখ ক্ষেত থেকে অপহৃত তোশারফ হোসেন পপির লাশ উদ্ধার করা হয়।

তোশারফ হোসেন পপির ছোট বোন সাজিয়া আফরিন ডলি জানান, অপহরণের পরপরই তার বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় কনস্টেবল রবিউলের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) কোতয়ালী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করি।

অপহৃতের ছোট ভাই আসাদুজ্জামান বলেন, নয় দিন ভাইয়ের সন্ধান মিললেও তাকে জীবিত পাওয়া গেল না। শোকে পাথর হয়ে গেছেন তার স্ত্রী ও তিন ছেলে। এসময় তার ভাইয়ের অপহরণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের তিনি দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের স্ত্রী নাসিমা আক্তার ইভা জানান, আমার তিনটি ছোট ছোট ছেলেকে যারা এতিম করেছে তাদের ফাঁসি চাই। তারা যেন কোন ভাবেই ছাড় না পান সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ- পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে আর্থিক লেনদেন ও কাজের মেয়ের বিষয় নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর