বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তার বুকজুড়ে জেগে উঠা চরে ফসলের চাষাবাদ

news-image

রংপুর ব্যুরো : উজানে ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ ও পানি চুক্তির সফল বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে তিস্তায় এখন টলমলে জল নয়, মেলে ধু-ধু বালুচর ও ফসলের মাঠ। এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তার বুকজুড়ে ছিল জল আর জল, পাল তোলা নৌকার মাঝিরা ভাওয়াইয়া গানের সুর ধরে বিভিন্ন মালের পশরা সাজিয়ে যেত দূর-দূরান্তে। সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। নদী ড্রেজিং না হওয়ায় আর বর্ষা মৌসুমে বন্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পলি আর বালি জমে খরস্রোতা তিস্তা নদী নাব্যতা হারিয়ে এখন মৃতপ্রায়। এখন তিস্তার বুকজুড়ে জেগে উঠা চরে চলছে ব্যাপক ফসলের চাষাবাদ।

দেখা গেছে, রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর প্রান্তে এমন ভাবে চর জেগে উঠেছে, দেখলে মনে হয় এক সময়ের যৌবন প্রাপ্ত তিস্তা যেন এখন একটি সরু ক্যানেল। বর্তমানে তিস্তা বুকজুড়ে জেগে ওঠা চরের আশপাশের গ্রামের কৃষকরা নতুন করে জেগে ওঠা চরে আলু, ধান, তামাক, গম, ভুট্টা ও কুমড়া, শষা, লাউ, ধনিয়া, ফুলকপি,শিমসহ সবজিসহ বিভিন্ন কৃষি ফসলের চাষাবাদ শুরু করেছে। এছাড়াও রংপুরের গঙ্গাচড়ার চর ইছলী, মহিপুর, লক্ষিটারি, মর্ণেয়া, কাউনিয়ার হারাগাছ, চর নাজিরদহ, হরিশ্বর, চরগোনাই, গাজীরহাট, হাতিবান্ধার দোয়ানী, বড়খাতা ও ডিমলার বিভিন্ন চরে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।জানা গেছে, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী ঐত্যিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর না থাকায় দেশ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে কারণে আজ তিস্তায় পানি নেই। বর্তমানে আবারও দু’দেশের মধ্যে তিস্তায় পানি বণ্টন নিয়ে আলাপ আলোচনা চলে। তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজি হলেও বাধ সাজে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ফলে পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষর অন্ধকারাচ্ছন্নে পড়ে।

এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছিল থৈ থৈ পানি নদীর শাখা-প্রশাখা গুলো ছিল সচল। সে নদী ও শাখা-প্রশাখা গুলো পানির অভাবে এখন মৃতপ্রায়। নদীতে বালি ও পলি জমায় নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবছর বন্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পলি আর বালি জমে ক্রমেই তা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর উজানে গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের বিরূপ প্রভাবে তিস্তার বেশিরভাগ এলাকায় নদী ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন ও পানি না থাকায় তা শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে এ মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রংপুরের চর গনাই গ্রামের নুরুল হক ও হাতীবান্ধার দোয়ানীর রবিউল ইসলাম বলেন, নদী ড্রেজিং না হওয়ায় আর বর্ষা মৌসুমে বন্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পলি আর বালি জমে খরস্রোতা তিস্তা নদী নাব্যতা হারিয়ে এখন মৃতপ্রায়। তাই জেগে উঠা চরে ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে।

তিস্তাপাড়ের স্থানীয়রা বলেন, তিস্তা নদী ড্রেজিং হয়েছে কিনা তা আমরা জানিনা। নদী ড্রেজিং করে নদীর পানির গতিপথ সচল করা দরকার। এতে করে নদী ভাঙন রোধ হবে তেমনি কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে সেচ কাজ চালিয়ে উপকৃত হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ কমে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। রংপুরের নদী বিশেষজ্ঞ তুহিন ওয়াদুদ বলেন, কৃষি নির্ভর রংপুর অঞ্চলকে সাবলম্বী ও নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে তিস্তা নদী জরুরী ভিত্তিতে ড্রেজিং করা প্রয়োজন।

এ জাতীয় আরও খবর

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় আনার নিয়মে বড় সুবিধা

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন ৪৭ লাখ করদাতা

এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক