,

এক দশকে ১২ হাজার মানব পাচার অপরাধ সম্পর্কিত ঘটনা ঘটেছে

news-image

রংপুর ব্যুরো : ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এক দশকে প্রায় ১২ হাজার মানবপাচার সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী মৈত্রী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য তুলে ধরেন নারী মৈত্রীর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোমেনুল হক মোমেন। বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউএনডিপি’র তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, দেশের প্রত্যেকটি সীমান্তবর্তি জেলা মানবপাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এসব জেলা থেকে বেশির ভাগই প্রাথমিকভাবে বড় শহরগুলোতে আসে। সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকাতে নতুবা পাচার হয়ে দেশের বাহিরে চলে যায়। এদেরকে পতিতাবৃত্তি, বাসা-বাড়ির কাজে ও ভিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য দিয়ে আরও বলেন, ২০০১ সালে মানবপাচার সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৯০৪টি। গত এক দশকে ১১ হাজার ৮৭৬টি তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্ল্যান বাংলাদেশের তথ্য মতে, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ নারী মিথ্যা প্রলোভনের শিকার হয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। গত এক দশকে কতজন শিশু পাচার হয়েছে, তার তথ্য বিক্ষিপ্তভাবে সংরক্ষিত হলেও সমষ্টিক কোন তথ্য প্রকাশ না পাওয়ায় শিশু পাচারের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি বলেও জানান নারী মৈত্রীর এই কর্মকর্তা।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ভূমিষ্ট শিশুও পাচার হয়। তাদের কিডনি পাচার হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে কোন রিপোর্ট হয় না। এক রিপোর্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যত শিশু মিসিং বা ট্রাফিকিং এর ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে এবং টেলিভিশন মিডিয়াতে ১২ ভাগ রিপোর্ট প্রকাশ পায়। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ তে নবজাতকদের মিসিংয়ের কোন তথ্য কোথাও উল্লেখ নেই। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ন ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংগঠনগুলো কাজ করলেও তাদের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাবসহ ভিকটিমদের অভিযোগ তালিকাও নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এসময় মানবপাচার রোধসহ শিশুকে মানবসম্পদ হিসেবে বেড়ে উঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ বাস্তবায়ন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ বাস্তবায়ন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং, শিশুপাচার রোধ ও শিশু সুরক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। নারী মৈত্রী চলতি বছরে বিভিন্ন সময়ে রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে প্রশাসনের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, সমাজ উন্নয়নকর্মী, স্বেচ্ছাসেবি, সুধি সমাজের নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সেমিনার, কর্মশালা ও সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান করেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা