,

সরাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিদর্শিকার সেচ্ছাচারিতা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা আয়েশা বেগমের সেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ আগত রোগীরা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে প্রসূতি মা সহ শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি চেম্বারে আসেন বেলা ১১টার পরে। আবার চলে যান দুপুর ১টার মধ্যে। যদিও তিনি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দু’তলা ভবনে থাকেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল ৯টা থেকে রোগীরা অপেক্ষা করতে থাকলেও তিনি দু’তলা থেকে নেমে আসেন ১১টার পর। কেউ দু’তলা বাসায় তাকে ডাকতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এছাড়াও তিনি প্রসূতি মা ও শিশুদের সমস্যা দূর থেকে শুনে চিকিৎসা সেবা দেন। তার কাছে কাউকে ভীড়তে দেন না। গত সপ্তাহে একটি শিশু তার মায়ের কোল থেকে হাত বাড়িয়ে পরিদর্শিকা আয়েশা বেগমের গা ছোঁয়ার চেষ্টা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুর গালে চড় মারেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘেরাও করেন। বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বশীলরা জেনেও নীরব আছেন।

অভিযোগ আছে, এখানকার কেন্দ্রে আগত প্রসূতি নারীদের নানা কথা বলে তাদের পছন্দের প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করাতে পাঠিয়ে দেন পরিবার পরিদর্শিকা আয়েশা বেগম ও উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা। শুধু কালিকচ্ছ পরিবার কেন্দ্রই নয়, উপজেলার নোয়াগাঁও, অরুয়াইল ও পানিশ্বর পরিবার কেন্দ্র থেকেও স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসূতি নারীদের সিজারের জন্য পাঠানো হয়।
আর এতে কমিশন বাণিজ্য করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা। তিনিই পছন্দের প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে প্রতি সিজারের কমিশন চুক্তি করেন। আর পরিবার কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শিকারা তার কথামতো সিজারের রোগী পাঠিয়ে দেন সেই প্রাইভেট হাসপাতালে। বিনিময়ে তারাও কমিশনের ভাগ পান।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর)  সরেজমিন বেলা সাড়ে ১১টায় কালিকচ্ছ স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পরিদর্শিকা আয়েশা বেগম রোগী দেখছেন। আগত রোগী কালিকচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা বৃষ্টি আক্তার, লতিফা বেগম সহ কয়েকজন জানান, তারা এখানে সকাল সাড়ে ৯টায় উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা পৌনে ১১টায় ডাক্তার আপা দু’তলা থেকে নেমে এসে রুমের দরজা খুলেন।

এ বিষয়ে পরিদর্শিকা আয়েশা বেগম জানান, এখানে প্রায় প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এখানে প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারিও করানো হয়। তবে এই ভবনে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকায় বহু পুরুষ মানুষের আনাগোনা, তাই এখানে ডেলিভারি করাতে সমস্যা হয়। আমরা বাধ্য হয়ে তাদের অন্যত্র পাঠাতে হয়। এতে কোনো বাণিজ্য নেই। মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা আমাদের দেখাশুনা করে থাকেন।

এ ব্যাপারে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা এর মুঠোফোনে কল দিয়ে বিস্তারিত জানানো হলে, তিনি নেটওয়ার্ক এর দোহাই দিয়ে অফিসে গিয়ে দেখা করার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা