,

মাজারের দানবাক্সে ২৭ লাখ টাকা

news-image

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার মহাস্থানে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রাহ.) মাজারের আটটি সিন্দুকের (দানবাক্স) টাকা গণনা করা হলো দুইদিন ধরে। গত তিন মাসে মানুষের দানকৃত টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৭ টাকায়।

এ ছাড়া ওই দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া গেছে স্বর্ণের তৈরি ১৪টি নাক ফুল, কিছু স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা। মাজারের কমিটির কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গণনা করা শেষ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাস্থান মাজার কমিটির সভাপতি বগুড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসিম রেজার তত্ত্বাবধানে গত সোমবার প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি সিন্দুক খোলা হয়। এরপর মঙ্গলবার খোলা হয় অন্য তিনটি সিন্দুক। দু’দিন ধরে ওইসব দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ চলে। মহাস্থান উচ্চবিদ্যালয়ের ২০জন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি স্থানীয় রূপালী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা টাকা গণনার কাজে অংশ নেন।

মহাস্থান মাজার কমিটি জানায়, মাজারের চারদিকে মোট নয়টি সিন্দুক রয়েছে। এর মধ্যে একটি অকেজো। অন্য আটটি সিন্দুকে মাজার জিয়ারত করতে আসা লোকজনসহ পর্যটক ও দর্শনার্থীরা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার দান করেন। মানুষের দানের ওই টাকা মাজার এবং মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। সিন্দুকে পাওয়া টাকাগুলো বরাবরের মতোই এবারও মাজারের পাশেই রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

কথিত আছে যে, শাহ সুলতান ছিলেন বল্খ দেশের বাদশাহ। তিনি রাজ্যের মায়া ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য বেরিয়ে পড়েন। হিজরী ৪৩৯ সনে তিনি মহাস্থানে পৌঁছেন। সে সময় মহাস্থানের রাজা ছিলেন পরশুরাম। এই অঞ্চলে ধর্ম প্রচারকালে দলে দলে লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় রাজা ক্ষিপ্ত হন এবং ওই সুফীকে রাজ্য ত্যাগের নির্দেশ দেন। সুফী রাজ্য ত্যাগ না করায় যুদ্ধ হয়।

ওই যুদ্ধে রাজা পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হন। সুফী সাধক এরপর মহাস্থানেই তার আস্তানা গড়ে তোলেন এবং সেখানেই তিনি দেহত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে তার মাজারকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মিত হয়। প্রতি বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার তার মাজারে ওরস আয়োজন করা হয়। এদিন দেশ-বিদেশ থেকে সাধু-সন্যাসী আর ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন মহাস্থান মাজার জিয়ারত করতে। এছাড়া বছর জুড়েই ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় পরিদর্শনে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটক। তারা মাজারের চারদিকে রাখা সিন্দুকগুলোতে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার দান করেন।

মহাস্থান মাজার কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, মাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন মাস পর পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়। গত জুলাই মাসে সিন্দুকগুলো খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৪২ লাখ টাকা। আগের তুলনায় এবার টাকার পরিমাণ কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওরস ও অন্যান্য অতিথি উপলক্ষে মাজারে জনসমাগম বেশি হলে দানের টাকার পরিমাণও বাড়ে। এই সময়কালে যেহেতু মহাস্থানে কোনো উৎসব হয়নি সেকারণে দানের পরিমাণ কিছুটা কম।’

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা