,

মরদেহ নিতে এসে স্বজনদের আহাজারি,  দায়ীদের শাস্তির দাবি 

news-image
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : মর্মান্তিক এ ট্রেন দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন তার বাবা-মা, কেউ সন্তান কেউবা হারিয়েছেন ভাই-বন্ধু। কেউ যাচ্ছিলেন কাজে, কেউ ঘুরতে আবার কেউ ফিরছিলেন আপনজনদের কাছে। কিন্তু কারোরই কোথাও যাওয়া হলো না। বিষাদের পাহাড় নিয়ে তারা এখন নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। বাড়ির ওঠোনে রাখা তাদের নিথর দেহ কাঁদিয়েছে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার সবাইকে। মরদেহবাহী গাড়িগুলো বাড়িতে ঢোকার পরই স্বজনদের আহাজারি আর হাহাকারে ভারি হয়ে যায় চারপাশের পরিবেশ। বুক ভরা কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়ে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা। কোন ভাবে মেনে নিতে পারছেননা এই অকাল মৃত্যু।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিন রাতে সবার মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করে জেলা প্রশাসন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের সবারই পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোছলিম মিয়ার স্ত্রী জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫৫) তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪০), হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ তিরাশি এলাকার মাঈন উদ্দিনের স্ত্রী কাকলী আক্তার (৩২), জাহাঙ্গীর মালের স্ত্রী আমাতুন বেগম (৪১) ও মেয়ে মরিয়ম (৪), চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া এলাকার বিল্লাল মিয়াজীর মেয়ে ফারজানা (১৫), হবিগঞ্জের ভোল্লা সদর এলাকার ইয়াছিন আরাফাত (১২), চুরারুঘাট উপজেলার তীরেরগাঁও এলাকার সুজন আহমেদ (২৪), আহম্মেদাবাদ এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী পিয়ারা, হবিগঞ্জ সদরের আজমত উল্লার ছেলে রিপন (৪৫), বানিয়াচং উপজেলার মদনমুরক এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩০), বড়বাজার এলাকার সোহেল রানার মেয়ে আদিবা (২), হবিগঞ্জ সদরের আনোয়ারপুর এলাকার আলী মো. ইউসূফ (৩২), বানিয়াচং এলাকার ছোয়ামণি (৩) এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার শঙ্কর হরিজনের ছেলে রবি হরিজন (২৩)। মঙ্গলবার ভোররাতে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে সবাই যখন গভীর ঘুমে ঠিক তখনই ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
বিপরীত দিক থেকে আসা তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়। তূর্ণাকে পাশ দেয়ার জন্য সংযুক্ত লাইনের এক লাইন থেকে আরেক লাইনে ঢুকছিল উদয়ন। বেশ কয়েকটি বগি ঢুকে পড়লেও তিনটি বগি ঢোকার আগমুহূর্তে তূর্ণা এসে উদয়নকে থাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জকির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, তূর্ণা নিশীথাকে আউটারে থাকার জন্য সিগনাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক আউটার ও হোম সিগনাল অমান্য করে স্টেশনে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে