,

ঢাকা থেকে শিয়ালের মাংস এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেস্টুরেন্টে বিক্রি করছে একটি চক্র

news-image

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : রাজধানী ঢাকা থেকে কম দামে শিয়ালের মাংস কিনে প্যাকেট জাত করার পর তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাসির মাংস হিসেবে দীর্ঘ দিন যাবত বিক্রি করে আসছে একটি চক্র।

সোমবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় এক রেস্টুরেন্টে শিয়ালের মাংস বিক্রির সময়ে এ চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৭ কেজি শিয়ালের মাংস ও ১০ কেজি কলিজা উদ্ধার করা হয়।

আটকৃতরা হলেন- হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়াকুড়ি এলাকার মাসুক মিয়ার ছেলে আরজত আলী (২২) ও একই এলাকার সাবু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২০)। পরে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াংকা শিয়ালের মাংস বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনের ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় অভিযুক্ত আরজত আলীকে ছয়মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সাদ্দাম হোসেনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এরআগে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আরজত আলী জানান, ঢাকার পূর্ব রামপুরা এলাকার ‘আল মেজবান’ নামে একটি মাংসের দোকান থেকে কম দামে শিয়ালের মাংস ও কলিজা কিনে এনে প্যাকেট জাতের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকার রেস্টুরেন্টে গিয়ে তা খাসির মাংস বলে বিক্রি করতেন তারা। এ কাজের জন্য তাকে প্রতিমাসে আট হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো। তিনি আরও জানান, রাজধানী গুলশান নিকেতন এলাকার ডি-ব্লক, রোড নং-৬, হাউজ নং-২৩ এই বাড়িতে শিয়ালের মাংস প্যাকেট জাত করেন নিজাম মিয়া নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। পরে প্যাকেট জাত এসব মাংস দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়।

অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি আশুগঞ্জ এলাকায় একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিছুদিন আগে এ মাংস বিক্রি কাজে তিনি জড়িত হন। তবে তিনি জানতেন এসব খাসির মাংস। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ছয় কেজি মাংস ও কলিজা বিক্রির পর বাকি মাংস সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে তিনি পুলিশকে জানান।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিয়ালের মাংস ও কলিজাসহ এই চক্রের দুইজনকে আটক করা হয়। তারা দীর্ঘ দিন যাবত এখানে এই অপকর্ম করে আসছে। আটক শিয়ালের মাংস ও কলিজা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্থানীয় পাঙ্গাস মাছ চাষের একটি পুকুরে ফেলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াংকা জানান, এই চক্রটি শিয়ালের মাংস প্যাকেটজাত করার পর তা খাসির মাংস বলে এখানকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিক্রি করে আসছিল।
অভিযুক্তদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই অপকর্ম ও চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা