,

দেশের চা শিল্পে এখনো দাস প্রথার রেশ রয়ে গেছে

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : চা বাগানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রম আইন লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের চা শিল্পে এখনো দাস প্রথার রেশ রয়ে গেছে। অনেক বাগানে শ্রমিকদের খাল বা ছড়ার পানি পান করতে দেওয়া হয়। এমনকী পানি পানের জন্য গ্লাসও দেওয়া হয় না তাদের।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে টিআইবি। ‘চা বাগানের কর্ম পরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকার; সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণায় দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন খাতের মধ্যে তুলনামূলক কম মজুরি পান চা বাগানের শ্রমিকরা, যা কটনশিল্পের শ্রমিকদের মজুরির থেকেও কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চা বাগানের একজন স্থায়ী শ্রমিককে দৈনিক ১০২ টাকা মজুরি, রেশন, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, ভবিষ্যৎ তহবিল ইত্যাদির মাধ্যমে মালিকেরা যে সুবিধা দেন, তার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়ায় মাসে মাত্র পাঁচ হাজার ২৩১ টাকা। এ ছাড়া চা বাগানে একটি অংশের শ্রমিক অস্থায়ী, তাদের মজুরি আরও কম।

দেশের ৬৪ চা বাগানের ওপর পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, ২৩টি বাগানে কাজের সময় শ্রমিকদের ছড়া, কুয়া বা খালের পানি পান করতে দেওয়া হয়। হাত পেতে শ্রমিকরা পানি পান করেন, কোনো গ্লাস দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ বাগানে শৌচাগার নেই।

অন্যদিকে কোনো বাগান তার মুনাফার অংশ শ্রমিককে দেয় না, যদিও তা আইনে আছে। কোনো বাগানে গোষ্ঠী বিমা নেই। কোনো বাগানেই নিয়োগপত্র নেই, আবার ৯৩ শতাংশ বাগানে শ্রমিকদের নিয়োগসংক্রান্ত কোনো নথিই দেওয়া হয় না।

এ ছাড়া ৫৬টি বাগানেই অ্যানালগ যন্ত্রে পাতা ওজন করা হয়। ওজন করার সময় নির্দেশক কাঁটা অনুসরণ করতে চাইলে শ্রমিকদের ধমক ও শাস্তি দেওয়া হয়। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গামছার ওজন, পরিবহনের সময় পাতা পড়ে যাওয়া, বৃষ্টিতে পাতার ওজন বেড়ে যাওয়াসহ কোনো কারণ ছাড়াই পাতার ওজন কম দেখানো হয়। টিআইবির হিসাবে, পাতার ওজন কম দেখানোর প্রাক্কলিত মূল্য সপ্তাহে ৩১ লাখ টাকা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে দাস হিসেবে মানুষকে ধরে এনে চা বাগান করা হয়েছিল। সেই অবকাঠামো এখনো রয়ে গেছে। তবে এখন আইনি কাঠামো এসেছে। তাই আমি একে দাসপ্রথা বলব না। আপনারা চাইলে দাসপ্রথার বর্তমান প্রজন্ম বলতে পারেন।’

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর