,

নাসিরনগরে অবশেষে নিজ বাড়িতে ফিরেছে রসরাজের পরিবার

456নিজস্ব প্রতিবেদক : নাসিরনগরে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছে বহুল আলোচিত রসরাজ দাসের পরিবারের সদস্যরা। তবে হামলায় ভাঙ্গা ঘর বাড়িতেই উঠেছেন রসরাজের বাবা জগন্নাথ দাস, মা নমিতা রাণী দাস ও ভাই দয়াময় দাস। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারটি। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় গ্রেফতার হন নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০)। পরদিন সকালে দুস্কৃতিকারীরা হরিণবেড় গ্রামের পশ্চিমপাড়াস্থ রসরাজের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তবে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশীদের না জানিয়ে ২৯ অক্টোবর রাতের আঁধারে রজরাসের মা-বাবাসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রসরাজের পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার এক মাস পর গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রসরাজের মা নমিতা রাণী দাস ও বাবা জগন্নাথ দাস রসরাজের মুক্তি দাবি করে ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ নাসিরনগরে তাদের বাড়িতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। এরপর তারা বাড়িতে ফিরে আসেন।

 

নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু জাফর জানান, রসরাজের পরিবারের সবাই এখন বাড়িতে এসেছে।তার ভাই দয়াময় দাসের সাথে আমার কথা হয়েছে। রসরাজের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। হরিণবেড় গ্রামে পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পও বসানো হয়েছে। এদিকে, রজরাসের পরিবার বাড়ি ফিরে আসলেও তাদের ঘর-বাড়ি এখনো ভাঙাই রয়েছে হয়নি স্বাভাবিক। হামলায় ভাংঙ্গা ঘরবাড়িতে এখন কোনোরকমে তারা বসবাস করছেন জানিয়েছেন রসরাজের মা নমিতা রাণী দাস। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী জানান, রসরাজের পরিবার বাড়িতে ফিরেছেন শোনার পর তাদের ত্রাণ সহায়তা নিতে উপজেলা পরিষদে আসার জন্য খবর দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো ত্রাণ নিতে আসেনি। দু-একদিনের মধ্যে তারা না এলে আমাদের অফিসিয়াল ভাবে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মামলায় গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ (৩০) দাসের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নাসিরনগর উপজেলা। পরদিন (৩০ অক্টোবর) মাইকিং করে সমাবেশ ডাকে দুটি ইসলামী সংগঠন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই দুস্কৃতিকারীরা নাসিরনগর উপজেলা সদরে তাণ্ডব চালায়। এসময় দুস্কৃতিকারীরা উপজেলার অন্তত ১৫টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে দুস্কৃতিকারীরা আবারো উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়েরর অন্তত ৬টি ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা